1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

পে স্কেল বাস্তবায়ন ঈদের পূর্বেই করার জন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের স্মারকলিপি

  • Update Time : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ২০৯ Time View
পে স্কেল বাস্তবায়ন ঈদের পূর্বেই করার জন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের স্মারকলিপি

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল প্রবর্তন এবং সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। এ দাবিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ একযোগে ১৪ জন মন্ত্রী ও ৬ জন প্রতিমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর এসব স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও একই দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’ দেশের সরকারি কর্মচারী অঙ্গনের সর্ববৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরভিত্তিক ও জাতীয় সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এ জোট দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে আসছে।

তারা বলেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল প্রবর্তনের মাধ্যমে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়, তার পর থেকেই সংগঠনটি বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আবেদন-নিবেদন ও বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায়ও বসেনি কোনো সরকার। অথচ ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কর্মচারীদের আর্থিক দুরবস্থা বিবেচনায় দুটি পে-স্কেল প্রদান করেছিল। কিন্তু গত ১১ বছর ধরে নতুন কোনো পে-স্কেল না হওয়ায় কর্মচারীরা বঞ্চিত রয়েছেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছয় সদস্যের একটি পরিবার নিয়ে বর্তমান বেতনে জীবনধারণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণায় যথাসময়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—যার ফলে কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়।

সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেন, ২০১৯ সাল থেকে বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালানো হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও একাধিকবার আবেদন জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে নবম পে-কমিশন গঠিত হয় এবং কমিশন ইতোমধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু আশ্বাস সত্ত্বেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি ও অবসরোত্তর ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা প্রদানে উদ্যোগী হলেও ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ও পদবৈষম্য নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সংবিধানের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের যুক্তিসঙ্গত মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অথচ বর্তমানে ৮,২৫০ টাকা সর্বনিম্ন বেতনে তিন বেলা খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, সামাজিক ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয়। ২০ থেকে ১১ গ্রেড পর্যন্ত বেতনসীমা ৮,২৫০ থেকে ১২,৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ—যেখানে ১০টি গ্রেডে পার্থক্য মাত্র ৪,২৫০ টাকা। বিপরীতে ১০ থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বেতন ১৬,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৭৮,০০০ টাকায় শেষ—যেখানে পার্থক্য ৬২,০০০ টাকা।

এছাড়া কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি, আবাসন, সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ, কুক, দারোয়ানসহ নানা সুবিধা রয়েছে। এমনকি সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য কুক ও গার্ড পদে লোক নিয়োগ না দিয়েও মাসিক ৩২,০০০ টাকা সমপরিমাণ ভাতা প্রদান করা হয়। কিন্তু ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তেমন কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নেই। ফলে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেতনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:১০—যা সামাজিক বৈষম্যকে প্রকট করেছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা পদবী ও গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত। ১৯৯৫ সালে সচিবালয়ের কর্মচারীদের পদনাম ও গ্রেড পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, হাইকোর্ট, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের পদবী ও গ্রেড উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ ২০২২ সালে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারীদের পদবী পরিবর্তন করে সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নেতারা দাবি করেন, বিদ্যমান বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তারা মেডিকেল ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা, সন্তানপ্রতি শিক্ষা সহায়ক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা ৪০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীতকরণ, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে বৃদ্ধি এবং বিজয় দিবস ভাতা চালুর দাবি জানান। এছাড়া চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণের প্রস্তাবও রাখা হয়।

সর্বোপরি সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে—দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল ১:৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডে পুনর্গঠন করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫,০০০ টাকা নির্ধারণপূর্বক আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই, গেজেট প্রকাশ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলেন, কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই সময়ের দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme