বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-কে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার এ নোটিশ পাঠান। নোটিশটি সংসদ সচিবালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের আইন সচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নোটিশে বলা হয়, জুলাইকে অসম্মান করে রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক বক্তব্য তার সাংবিধানিক শপথ ও দায়িত্বের পরিপন্থি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দল-মত-নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন—এমন শপথ নেওয়ার পরও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে তিনি সেই শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে তাকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধনের দাবি জানানো হয়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে অভিশংসন (impeachment) প্রস্তাব উত্থাপন ও পাস করতে হয়। সাধারণত—
অর্থাৎ, কেবল আইনি নোটিশ পাঠালেই রাষ্ট্রপতি অপসারণ সম্ভব নয়; এর জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়া অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের সময় সংবিধান রক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষার শপথ নেন। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও অধিকাংশ নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য বা অবস্থান যদি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে বিবেচিত হয়, তবে তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে—যদিও এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
এ নোটিশের প্রেক্ষিতে এখনো সংসদ সচিবালয় বা আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি সংসদীয় আলোচনায় না এলে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন না পেলে অপসারণ প্রক্রিয়া এগোনোর সম্ভাবনা কম। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
আইনি নোটিশের ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হলে আইনজীবী পক্ষ আদালতে রিট আবেদন করতে পারেন—যদিও রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট দায়মুক্তি (immunity) ভোগ করেন, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবি ও আইনি নোটিশ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সংসদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।
Leave a Reply