সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় অংকের মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। চলমান আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় অর্থ মন্ত্রণালয় এই নতুন ভাতার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। প্রস্তাবটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের বেশি সুবিধা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বেতন বৈষম্য লাঘবে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, গ্রেডভেদে মহার্ঘ ভাতার হার তিনটি ভাগে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ, ৪র্থ থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মচারীরা ২০ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৩য় গ্রেডের কর্মকর্তারা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এই কাঠামোর মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম বেতনভোগীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, কোনো পর্যায়ের কর্মচারীই ৪ হাজার টাকার কম মহার্ঘ ভাতা পাবেন না। অর্থাৎ সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিতভাবে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮০০ টাকা, যাতে উচ্চ গ্রেডে অতিরিক্ত আর্থিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি না হয়।
ন্যূনতম মহার্ঘ ভাতা:
কোনো কর্মচারীই ৪,০০০ টাকার কম পাবেন না—হার অনুযায়ী হিসাব কম হলেও ৪,০০০ টাকা নিশ্চিত।
সর্বোচ্চ সীমা:
ভাতা হিসাব করে ৭,৮০০ টাকার বেশি হলে, তা কমিয়ে সর্বোচ্চ ৭,৮০০ টাকা দেওয়া হবে।
কারা সবচেয়ে লাভবান?
১১–২০ গ্রেডের নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীরা শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি (২৫%) সুবিধা পাচ্ছেন।
পেনশনভোগীরা:
পেনশনের মূল অঙ্কের ওপর একই হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন, তবে আগের ৫% বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হবে।
এই নতুন সুবিধা শুধু কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নয়, অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও মহার্ঘ ভাতার আওতায় আসবেন। তবে ভাতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের সরকারের দেওয়া ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ ওই প্রণোদনার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় সার্বিকভাবে কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই সরকারি কর্মচারীরা এই বাড়তি অর্থ হাতে পাবেন। বাড়তি ব্যয়ের অর্থ জোগান দিতে সরকার উন্নয়ন বাজেট থেকে সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য ও আর্থিক সংকটে থাকা সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের স্বস্তির উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Leave a Reply