বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের নেতারা নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহ আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠি রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ের উপদেষ্টার দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব বেল্লাল হোসেন জানান, চিঠি প্রদান করার পরও আজ অর্থ উপদেষ্টা অফিসে না থাকায় নেতাদের সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তিনি পে স্কেল এবং সরকারি কর্মচারীদের সমস্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত আছেন। নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে খুব দ্রুত উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তাদের ডাকা হবে।
সরকারি চাকরিজীবীরা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এর আগে, জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য একটি কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ছয় মাসের মধ্যে নতুন পে স্কেলের সুপারিশ সম্পন্ন করা। তবে কর্মচারীরা সরাসরি চাহিদা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।
বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির সদস্য সচিব হুমায়ুন কবীর জানান, দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের নেতারা বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রথমে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে পে স্কেল বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা ও কর্মচারীদের দাবি উপস্থাপন করা হবে। তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ উপদেষ্টা নানা কৌশল অবলম্বন করে আলোচনার সুযোগ এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারীরা সতর্ক, কারণ পে স্কেল বাস্তবায়নের জটিলতা শুধু বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সরকারি কর্মসংস্থানের ন্যায্যতা, চাকরির প্রণোদনা এবং কাজের অনুপ্রেরণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই তারা চাইছেন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দাবিকে অবহেলা না করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসুক।
Leave a Reply