বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও সরব হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংগঠনটি বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বরাবর একটি খোলা চিঠি পাঠায়। সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে পরিষদ স্পষ্টভাবে জানায় যে, বর্তমানে সচিবালয় ভাতা ঘোষণার আলোচনার পরিবর্তে এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা, যা সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণ করবে।
চিঠিতে পরিষদ উল্লেখ করে যে, তারা একটি জাতীয়ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা দীর্ঘদিন ধরে “এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি, পদ-পদবি বৈষম্য নিরসন, সচিবালয়ের ভেতর-বাইরের কর্মচারীদের সমান মর্যাদা নিশ্চিতকরণ”সহ মোট ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ, মানববন্ধন, রাজধানীতে মহাসমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, এমনকি প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে দাবি উপস্থাপন করেছে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এখন তাদের মূল লক্ষ্য—নবম পে স্কেলের দ্রুত গেজেট প্রকাশ।
চিঠিতে পরিষদ আরও অভিযোগ করে যে, বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারীর ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাত্র ৭-৮ শত কর্মচারী একটি বিশেষ ভাতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নেমেছে। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের মধ্যে অল্প সংখ্যক ব্যক্তি এমন পর্যায়ে যান যে অর্থ উপদেষ্টাকে ঘিরে ধরে বা অবরুদ্ধ রেখে তাদের দাবির পক্ষে চাপ প্রয়োগ করেন। পরিষদের ভাষ্যমতে, এই আচরণ প্রশাসনিক বিধি-বিধানের পরিপন্থী এবং সুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এমন আচরণ সচিবালয়ের বাইরে কর্মরত বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
আরও কঠোর ভাষায় চিঠিতে বলা হয়, যদি সরকারের পক্ষ থেকে নবম পে স্কেল পাশ কাটিয়ে শুধুমাত্র সচিবালয়ের এই স্বল্পসংখ্যক কর্মচারীর জন্য ২০% সচিবালয় কর্মচারী ভাতা ঘোষণা করা হয়, তাহলে দেশের বিভিন্ন দফতর, মাঠ প্রশাসন, মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কার্যালয়সহ সার্বিক আমলাতন্ত্রে নতুন করে এক ধরনের বৈষম্য, অসন্তোষ ও বিভেদ সৃষ্টি হবে। এতে সরকারি কর্মচারীদের বৃহৎ অংশ নিজেদের অবহেলিত হিসেবে দেখবে, যা প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
সবশেষে পরিষদের দাবি—সচিবালয়ের কর্মচারীদের জন্য আলাদা বা বিশেষ কোনো ভাতা ঘোষণার পরিবর্তে সরকারের উচিত প্রথমে সকল কর্মচারীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নবম জাতীয় পে স্কেল দ্রুত চূড়ান্ত করা। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই গেজেট প্রকাশ করা গেলে বহু বছর ধরে জমে থাকা কর্মচারীদের হতাশা ও অসন্তোষ দূর হবে এবং রাষ্ট্রীয় সেবায় নিয়োজিত বৃহৎ সংখ্যক মানুষের মধ্যে ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply