মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এমপিও কমিটি দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে নতুন নিয়োগ পাওয়া মোট ছয় হাজার ৯২০ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ছয় হাজার ৩৪৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৫৭৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সরকারি অংশের বেতন-ভাতা (এমপিও) পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষা খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত মাউশির নভেম্বর মাসের এমপিও কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পদাধিকার বলে সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মাউশির নয়জন আঞ্চলিক পরিচালক ও নয়জন উপপরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন অঞ্চলের প্রেরিত প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করা হয়।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্কুল পর্যায়ে ৬,৩৪৬ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা রয়েছে ঢাকার—১,৪৪৯ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১,৪০৪ জন এবং রাজশাহী অঞ্চলের ১,১৬২ জন। এছাড়া বরিশালে ৪৫৯, কুমিল্লায় ৪২৩, ময়মনসিংহে ৫৫৯, রংপুরে ৫৩৫, খুলনায় ৩৪২ এবং সিলেট অঞ্চলে মাত্র ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অঞ্চলভেদে বৈষম্যের কারণ হিসেবে বিদ্যমান শূন্যপদ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার গতি এবং প্রাপ্ত আবেদন সংখ্যা প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে কলেজ পর্যায়ের ৫৭৪ জন এমপিওভুক্ত ব্যক্তির মধ্যেও ঢাকার সংখ্যা ৭৭ জন, যা তালিকার শীর্ষে। চট্টগ্রামে ৯৪, কুমিল্লায় ৭৪, রংপুরে ৭৪, বরিশালে ৭০, খুলনায় ৭৭, ময়মনসিংহে ৬০ এবং রাজশাহীতে ৪৮ জন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—কলেজ পর্যায়ে সিলেট অঞ্চলের কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী এবার এমপিও তালিকায় স্থান পায়নি।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নতুন এমপিওভুক্ত এই শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত সরকারি অংশের বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply