সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে বক্তারা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নবম পে–স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশে সংগঠনের নেতারা বলেন, জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই ৯ম পে–স্কেল কার্যকর করতে হবে। দীর্ঘদিন ন্যায্য বেতন কাঠামো না পাওয়ায় দেশজুড়ে সরকারি কর্মচারীরা একযোগে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু নাসির খান জানান, সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর কথা থাকলেও ২০১৫ সালের পর আর কোনো বেতন বৃদ্ধি হয়নি। ফলে কর্মচারীদের বাস্তব জীবনযাত্রা ও ব্যয়ের সাথে বেতন কাঠামোর বড় ধরনের অমিল তৈরি হয়েছে। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে মো. বাদিউল কবির, মো. মাহমুদুল হাসান, রবিউল জোয়াদ্দার, মো. লুৎফর রহমান, আ. হান্নান, মো. বেলাল হোসেন ও খায়ের আহমেদ মজুমদার বক্তব্য রাখেন।
নেতারা বলেন, বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয় ও বেতন বৈষম্য বিবেচনায় এখনই নতুন পে–স্কেল ঘোষণা জরুরি হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের জন্য ন্যায্য ও উপযুক্ত বেতন কাঠামো প্রণয়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই কর্মচারীদের পক্ষে ৭ দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হলো—
১. নতুন পে–স্কেল গেজেট: ৯ম পে–স্কেল ১:৪ গ্রেড কাঠামো অনুযায়ী ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। নতুন পে–স্কেল জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করতে হবে।
২. টাইম স্কেল ও পেনশন সুবিধা পুনর্বহাল: ২০১৫ সালের পে–স্কেল গেজেটে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি বেতন জ্যেষ্ঠতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির সঙ্গে পেনশন চালু করতে হবে। বিদ্যমান গ্র্যাচুইটি ৯০ শতাংশের বদলে ১০০ শতাংশ করতে হবে এবং পেনশন–গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. পদোন্নতি ও টেকনিক্যাল মর্যাদা: ব্লক পোস্টসহ সব পদে ৫ বছর অন্তর উচ্চতর গ্রেড বা পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিতদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।
৪. বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বজায় রাখা: অনেক কর্মচারীর বেতন স্কেলের শেষ ধাপে পৌঁছায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে—এ অবস্থায় চাকরিরতদের ইনক্রিমেন্ট অব্যাহত রাখতে হবে।
৫. বৈষম্যমূলক সরকারি আদেশ বাতিল: উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের চাকরিকাল বিবেচনায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না দেওয়ার বিষয়ে ২০০৮ সালের যে আদেশ আছে তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে হবে।
৬. ভাতা ও রেশনিং পুনর্নির্ধারণ: বাজারমূল্য ও ব্যয়বৃদ্ধি বিবেচনায় ভাতাদি নবভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং সামরিক–অসামরিক বাহিনীর মতো ১০–২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৭. বেতন ও পদ বৈষম্য দূরীকরণ: সচিবালয়ের মতো একই ও অভিন্ন নিয়োগবিধি তৈরি করে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদ–বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে।
নেতারা বলেন, কর্মচারীরা নিজেরা কোনো বিলাসবহুল সুবিধা চান না—শুধু ন্যায্য বেতন কাঠামো এবং মানবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তাই তাদের মূল দাবি।
Leave a Reply