বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিএড স্কেল সংকট দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকার এমপিও নীতিমালা সংশোধন করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক নিয়োগের পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড ডিগ্রি অর্জন করলে তিনি উচ্চতর স্কেল—অর্থাৎ জাতীয় বেতনস্কেলের ১০ম গ্রেড—পাবেন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসির অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের বিএড ডিগ্রিও এই স্কেলের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব শিক্ষক বিএড ডিগ্রি নিয়েও স্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির ব্যবস্থা।
নতুন সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষায় ডিগ্রিবিহীন অবস্থায় সহকারী শিক্ষক বা সহকারী মৌলভী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন, তারা পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড/বিএমএড বা সমমানের শিক্ষাগত ডিগ্রি অর্জন করলেই এই ডিগ্রির ভিত্তিতে ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতাদি পাবেন। তবে এই গ্রেডকে আলাদা উচ্চতর স্কেল হিসেবে গণ্য করা হবে না; এটি কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া সুবিধা।
এছাড়া নতুন জনবল কাঠামো জারির আগে যারা বিএড ডিগ্রি ছাড়াই এমপিওভুক্ত ছিলেন, তারাও কাঠামো জারির পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে অনুমোদিত যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে এই সুবিধা পেতে পারবেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সময় সময়ে অনুমোদিত কলেজগুলোর তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে, যাতে শিক্ষকরা সহজে বুঝতে পারেন কোন প্রতিষ্ঠানে পড়লে স্কেল পাওয়া যাবে।
একজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কলেজ এবং ইউজিসিতে তালিকাভুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিএড ডিগ্রি এখন থেকে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অবশ্যই এনইউ ও ইউজিসির অফিসিয়াল তালিকায় থাকতে হবে।
এমপিও নীতিমালা সংশোধনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি বড় অভিযোগ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯২টি কলেজ বিএড কোর্স পরিচালনার অনুমতি পেলেও মাউশি এদের মধ্যে মাত্র ২৩টি কলেজের ডিগ্রি গ্রহণ করতো এবং শুধু সেসব শিক্ষকই বিএড স্কেল পেতেন। বাকি কলেজগুলোর ডিগ্রিকে উপেক্ষা করা হতো, যদিও সব কলেজই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষক নিজেদের ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ হারাচ্ছিলেন।
আরও অভিযোগ ছিল—আদালতের রায় আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা একটি নোটিশ দেন যেখানে উল্লেখ করা হয়, ২৩ কলেজের বাইরে বিএড স্কেল দেওয়া যাবে না। শিক্ষকদের অভিযোগ, রিট করা ওই ২৩টি কলেজ প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে এই নোটিশ জারি করিয়েছিল। ফলে প্রভাবশালী কিছু কলেজ সুবিধা পেলেও প্রকৃত যোগ্য বহু শিক্ষক উপেক্ষিত ছিলেন।
অবশেষে এমপিও নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী অসঙ্গতি দূর হতে যাচ্ছে। এখন শিক্ষকরা যোগদানের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অনুমোদিত যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করে উচ্চতর স্কেল পেতে পারবেন। এতে শিক্ষকদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply