সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে সারা দেশে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার সুস্থতার জন্য জনসাধারণের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, তারেক রহমান, বিএনপি মহাসচিব, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা দোয়া চেয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত, বিশেষ করে লন্ডনে অবস্থানরত তার ছেলে তারেক রহমান।
মায়ের শারীরিক অবস্থার কারণে দেশে ফেরার ব্যাপারে সারাদেশেই আলোচনা চলছে। যদিও তারেক রহমান এখনও দেশে ফেরেননি, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন—মায়ের পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা খুব প্রবল হলেও সিদ্ধান্তটি তার একার হাতে নয়; নানা জটিলতা এতে জড়িত। এ ছাড়া দলের বিভিন্ন সূত্র বলছে—জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি, নিরাপত্তা, পাসপোর্ট জটিলতা, ট্রাভেল পাস এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশসহ পাঁচটি কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম।
তবে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যে কোনো সময়ই তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন—এমন ইঙ্গিত মিলেছে বিএনপির বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান খুব শিগগির দেশে ফিরবেন। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও।
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা হলে এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দিলে পরিবার ও দল তাকে দ্রুতই বিদেশে নেবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তারেক রহমানও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে—তারেক রহমান চাইলে ট্রাভেল পাস সঙ্গে সঙ্গেই ইস্যু করা হবে এবং খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসায় সরকার সহযোগিতা করবে।
২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইউকে থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও জটিলতার কারণে নিবিড় চিকিৎসা চলছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বড় একটি মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারকি করছে।
বিএনপি সূত্র বলছে, উন্নতির লক্ষণ দেখা দিলে এবং চিকিৎসা বোর্ড অনুমতি দিলে খালেদা জিয়াকে আবারও লন্ডন ক্লিনিক হাসপাতালে নেওয়া হবে। কাতার আমীরের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানা গেছে। তারেক রহমানও লন্ডন থেকে মা’র চিকিৎসার সব আপডেট নিয়মিতভাবে মনিটর করছেন, এবং তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরামর্শগুলো বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে—খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি, বিদেশে চিকিৎসার সম্ভাবনা এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময়সূচি। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, সময় মতোই তিনি ফিরে আসবেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দুই মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পর ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি পুরোপুরি মুক্ত হন এবং মাঝে মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যান। এবার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তার অবস্থা জটিল হয়ে ওঠে এবং দেশ জুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
Leave a Reply