দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৫–কে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন তীব্র আগ্রহ ও আলোচনা চলছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপ, এই পে স্কেলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সরকারের নির্দেশে গঠিত নবম পে কমিশন দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে, এবং নতুন কাঠামোটি কী রূপ নেবে তা নিয়ে সরকারি মহল ও চাকরিজীবীদের মধ্যে জোর জল্পনা চলছে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে পে কমিশন গঠনের পর থেকে কমিশন ধারাবাহিকভাবে আলোচনা, তথ্য সংগ্রহ ও খসড়া সুপারিশ তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। কমিশন চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারকে জমা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় নতুন পে স্কেলের গেজেট ১৫ ডিসেম্বরের আগেই প্রকাশ করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে নতুন পে স্কেলটি সম্ভবত ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে পারে।
এদিকে পে কমিশনের কাছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, যেগুলো নিয়ে কমিশনে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫,০০০ টাকা করার কথা উল্লেখ আছে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ দলের প্রস্তাবে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৩টির মতো করার পরামর্শ এসেছে, আবার আরেকটি প্রস্তাবে বর্তমান ২০টি গ্রেডই বজায় রাখার সুপারিশ আছে। পেনশন সুবিধাও আলোচনার একটি বড় অংশ; সেখানে ১৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছরে পেনশন প্রাপ্যতার নতুন প্রস্তাব তোলা হয়েছে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পে স্কেলের নথি ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ফেসবুকে ১৫ পৃষ্ঠার একটি কথিত পে স্কেল সুপারিশপত্র ভাইরাল হয়েছে, যেখানে নতুন বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং ভাতার কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু পে কমিশন দ্রুত জানিয়ে দিয়েছে যে এই নথিটি সম্পূর্ণ জাল এবং কমিশনের কোনো অনুমোদিত সুপারিশ নয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের সতর্ক থেকে শুধুমাত্র সরকারি গেজেট বা কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠন একজোট হয়ে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন কাঠামোর ঘোষণা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়। কর্মচারী ফোরাম জানিয়েছে, তাদের দাবি পূরণে বিলম্ব হলে জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ, ঢাকায় মহাসমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, এমনকি কর্মবিরতির মতো আরও কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে। সব মিলিয়ে পে স্কেল ২০২৫ বর্তমানে সরকারি চাকরি ব্যবস্থা ও কর্মচারী মহলের সর্বাধিক আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply