বাংলাদেশের নতুন পে–স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ জমা এবং বেতন কাঠামো কার্যকরের অগ্রগতিকে ঘিরে সচিবালয় কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা দূর হয়েছে। বুধবার দুপুরে পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির। সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, আলোচনায় কমিশনের পক্ষ থেকে পাওয়া ইঙ্গিত কর্মচারীদের জন্য আশাব্যঞ্জক।
বাদিউল কবির বলেন, কমিশলের সঙ্গে তাদের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আলোচনায় বেতন গ্রেড কমিয়ে আনা, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়া এবং ১৫ ডিসেম্বরের আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম শেষ করে নতুন বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ—এই তিনটি মূল দাবিই উপস্থাপন করা হয়। তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যান তাদের জানান যে, কর্মচারীদের দাবি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আন্তরিক চেষ্টা চলছে।
তবে এ বিষয়ে পে কমিশনের চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না; সব সিদ্ধান্তই কমিশনের সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা ও বিবেচনার ভিত্তিতে হবে। তিনি জানান, গত ১১ বছরের মুদ্রাস্ফীতি, আগামী পাঁচ বছরের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের আর্থিক তারল্য সংকট—এসব বিষয় বিশদভাবে পর্যালোচনা করার পরই সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, প্রয়োজনে এক–দুই সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের আল্টিমেটাম ও গণমাধ্যমে কমিশনের নীরবতা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছিল। তবে বাদিউল কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতে কমিশন চেয়ারম্যানের আশাব্যঞ্জক বক্তব্যকে কর্মচারী নেতারা বড় ধরনের ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, নভেম্বরের মধ্যেই সুপারিশ জমার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে, যা নতুন পে–স্কেল ঘোষণাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
Leave a Reply