পৃথিবীর সবকিছু যেন নিজের নিয়মে এগিয়ে চললেও বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রা যেন কোনদিনই স্বাভাবিক ধারায় চলতে পারে না। যেন অদৃশ্য কোনো শক্তি সবসময়ই তাদের পথরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। এমপিওভুক্তদের যেকোনো কাজ সেই অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়, আর এই সমস্যার যেন কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।
যখনই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়, সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি হয় কিংবা প্রতিবেদন প্রচারিত হয়—তখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাসের বন্যা বইয়ে দেয়। কখনো শোনা যায়, “আগামীতে আর এ ধরনের গাফিলতি হবে না।” আবার কখনো বলা হয়, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি; কাজের চাপ বেশি বলে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।” তাদের বক্তব্যে আরও থাকে—“আগামীতে এমন সমস্যা থাকবে না”, কিংবা “দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সব জটিলতা দূর করে দেওয়া হবে। তখন আপনারা প্রতিমাসে নির্দিষ্ট তারিখে আপনাদের প্রাপ্য কাজ বা সেবা নিয়মিতভাবে পেয়ে যাবেন।”
আমি এখন যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি এখন আসি সেই বিষয়ে। আমাদের তথা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটিতে প্রতি মাসের বিল সাবমিট হওয়ার কথা ছিল মাসের ২৩ তারিখের মধ্যে কিন্তু আজ ২৩ তারিখ হয়ে গেলেও এখন অবধি মাউশির ইএমআইএস সেল ইএফটির বিল সাবমিট অপশনে নভেম্বর ২০২৫ মাস দৃশ্যমান করেনি। তাহলে বিষয়টি একটু ভাবেন আমি কেন বলেছে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কোন কাজ সঠিক ধারায় প্রবাহিত হয় না। এ মাসে কিছু বিষয় জড়িত আছে সে বিষয়গুলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পাবে। সেই কারণে হিসাব নিকাশের জটিলতা কিছু রয়েছে বিধায় দেরি হতে পারে।
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে আজ ২৩/১১/২৫ দুপুর ১২.৪১ মিনিটে ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার হুমায়ন কবির সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বিল সাবমিট অপশন চালু হতে বা বিল সাবমিট করতে দেরি হবে। কি কারণে দেরি হবে যদিও তিনি তা জানান নি। তবে আমার ধারণা মাউশি কারণ বা অজুহাত হিসাবে যা বলবে তা হলো যেহেতু এমাসে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হিসাব রয়েছে সেকারণেই দেরি হবে। এ সকল জটিলতা দুর হলে তারপর এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটির ড্যাশবোর্ডে বিল সাবমিট করা যাবে।
তবে আমার ধারণা এ মাসের শেষ নাগাদ হয়তবা বিল সাবমিট অপশনে নভেম্বর মাস দৃশ্যমান করা হতে পারে। সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের নভেম্বব ২০২৫ ইং মাসের বিল সাবমিট এ মাসের শেষ নাগাদ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
গত অক্টোবর মাসে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী ইএফটিতে বেতন পেয়েছেন। এর মধ্যে-
অথ্যাৎ গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী ইএফটিতে বেতন পেয়েছেন। এর আগে গত ২৪ সালের অক্টোবর মাসে বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জটিলতা নিরসনে ২৪ইং সালের ডিসেম্বর মাস হতে ইএফটির মাধ্যমে বেতন বিল প্রদান করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। শুরু হতে নানান জটিলতা দুর করে আজ মোটামুটি একটি পর্যায়ে এসে পৌছেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটির মাধ্যমে বেতন প্রদানের প্রক্রিয়াটি যদিও এখন শতভাগ শিক্ষক ইএফটির আওতায় আসতে পারেনি নানাবিধ জটিলতার কারণে।
পরিশেষ যে কথাটি বলব তা হলো মাননীয় কর্তৃপক্ষ আপনারা যদি সকল ক্ষেত্রে আমাদের তথা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বিষয়ে এ ধরনের বৈষম্যমুলক আচরণ অব্যহত রাখেন তা কিন্তু আমাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে। আশা রাখি আগামীতে এধরনের সমস্যা নিরসন হবে এবং আপনারা আপনাদের দেওয়া কথা মতো আমাদের প্রয়োজন বিষয়গুলো যেগুলো আপনাদের করণীয় সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবেন।
Leave a Reply