নতুন পে–স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন চলতি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সামগ্রিক কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ করেছে কমিশন। আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান জানান, রিপোর্ট প্রস্তুতকাজ ইতোমধ্যে চলমান এবং কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুততার সঙ্গে রিপোর্ট চূড়ান্ত করার কাজ করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু চললে ডিসেম্বরের শেষ দিকে আমরা চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে পারবো বলে আশাবাদী।”
এরই মধ্যে নতুন পে–স্কেলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ পৃষ্ঠার একটি ‘সুপারিশপত্র’ ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ওই তথাকথিত নথিতে চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন হার, ইনক্রিমেন্ট কাঠামো ও ভাতা সংশোধনের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ‘সুপারিশপত্র’ সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি কমিশনের অনুমোদিত কোনো নথি নয়। তাদের দাবি, বেতন কাঠামোর খসড়া এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি; কোনো সিদ্ধান্তই এখনো স্থির হয়নি, এমনকি কোনো নথিও প্রকাশ বা ফাঁস করা হয়নি। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিশনের নাম-লোগো ব্যবহার করে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ভুল পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে।
ভুয়া নথি প্রসঙ্গে ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ১৫ পৃষ্ঠার সুপারিশ ঘুরছে, সেটি কমিশনের তৈরি নয়। এমন কোনো নথি আমাদের কাছে বিদ্যমান নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।” তিনি আরও জানান, কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ এখনও বাকি রয়েছে। বিশেষ করে আগামী সোমবার সচিবদের সঙ্গে যে সভা অনুষ্ঠিত হবে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন যেসব তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে পে–স্কেল বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন শেষে নতুন সরকার এলে এই পে–স্কেল বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেয়নি; তারা চাইছেন—বর্তমান সরকারই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করুক। তারা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তব অগ্রগতি না হলে তারা আন্দোলনে যাবে। এতে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে, পে কমিশন গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে এবং তাদেরও সদিচ্ছার ঘাটতি নেই।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শেষ দিকে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ গঠন করে সরকার। প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, কমিশনকে প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। দীর্ঘ বিরতির পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে এই কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

Leave a Reply