বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন এক সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে একটি স্বয়ংক্রিয় বদলি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে শিক্ষকরা নিজেরাই অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন, এবং তা যাচাই-বাছাই শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এ ব্যবস্থার সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) অনুষ্ঠিত হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে নিশ্চিত করেছে যে, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এ সফটওয়্যার বা মডিউল তৈরির কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“শিক্ষকদের বদলির জন্য টেলিটক একটি আধুনিক মডিউল তৈরি করছে। সফটওয়্যারটির কার্যপ্রণালী, নিরাপত্তা, তথ্য সংরক্ষণ ও আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বুধবারের কর্মশালায়। কর্মশালার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই বদলি কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএ (NTRCA) কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একই স্কুল বা কলেজে রয়েছেন। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে কর্মঅভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য তৈরি হচ্ছে না, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও নানা ধরনের শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই সরকার বদলি ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়।
এর আগেও একবার বদলি প্রক্রিয়াকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রণালয়, মাউশি এবং টেলিটকের মধ্যে কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়। ফলস্বরূপ প্রকল্পটি থেমে যায়। পরে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা বদলির সুযোগ চেয়ে আদালতে রিট করেন। আদালতের নির্দেশনার কারণে দ্বিতীয় দফায়ও এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার আর কোনো জটিলতা থাকছে না। নতুন সফটওয়্যারটি তৈরি হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে, এবং এর নিয়ন্ত্রণও থাকবে সরকারের হাতে। সিস্টেমটি এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকার মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়া শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই করে সফটওয়্যারই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
কর্মশালা শেষে সফটওয়্যারটির ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জেলার শিক্ষক বদলি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। সফলভাবে তা সম্পন্ন হলে সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই স্বয়ংক্রিয় বদলি ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন,-আমরা চাই, শিক্ষক বদলির প্রক্রিয়া যেন আর কাউকে সুপারিশ বা রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভর না করতে হয়। শিক্ষক নিজেই অনলাইনে আবেদন করবেন, এবং সিস্টেমই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত দেবে। এতে স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি শিক্ষকতা পেশায় দক্ষতা ও গতিশীলতাও বাড়বে।”
সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে, আগামী বছরের শুরু থেকেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বদলি যুগের সূচনা ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply