এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে কর্তনকৃত কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের টাকা লোপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই দাবি জানান। অধ্যক্ষ আজিজী তার পোস্টে লিখেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে কর্তনকৃত কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের ৬ হাজার কোটি টাকা যারা লোপাট করেছে, তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে লোপাট হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ব্যত্যয় ঘটলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায় তারা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা লোপাটের কারণে হাজার হাজার শিক্ষক বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও তাদের পাওনা অর্থ পাচ্ছেন না। এমনকি অনেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্তও এই টাকা না পেয়ে দুঃখজনকভাবে দুনিয়া ছেড়ে গেছেন—যা অত্যন্ত অমানবিক।
অধ্যক্ষ আজিজী অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে সরকারের কিছু আমলার রহস্যজনক ভূমিকা রয়েছে। তারা যেন একপ্রকার ‘সুবোধ বালক’ হয়ে চুপ করে আছেন, অথচ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কল্যাণ ও অবসর সুবিধা বোর্ডের দায়িত্বে থাকা ৮ জন সরকারি কর্মকর্তা ও অশিক্ষক প্রতিনিধিদের অজ্ঞাতে এমন বিশাল অঙ্কের অর্থ কীভাবে লোপাট হলো? কেন এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হচ্ছে না, এবং কেন তদন্তের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না?
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছে এই অর্থ জমা দিয়েছেন, তাই এর পূর্ণ দায়ভার সরকারের। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদি রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নীরব থাকে, তাহলে দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। যারা কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ লোপাটে জড়িত, তাদের নাম-পরিচয় সরকারের জানা আছে—তারা কেউ বিদেশি নয়। তাই সরকার চাইলে অবিলম্বে এই অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে পারে। কিন্তু সরকার কেন এখনো তা করছে না—এটাই এখন শিক্ষাঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
Leave a Reply