জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সোমবার (৩ নভেম্বর) ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে শুধু নিজেদের প্রার্থী নয়, জোট-সঙ্গীদের বিষয়ও বিবেচনায় রেখেছে দলটি। এ কারণে ৬৩টি আসন সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য খালি রাখা হয়েছে।
বর্তমানে বিএনপি-সমর্থিত তিনটি বড় রাজনৈতিক জোটে রয়েছে ৩০টি দল। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ সাতটি দল মিলে গঠিত হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। অপরদিকে পুরোনো ২০ দলীয় জোট ভেঙে এখন দাঁড়িয়েছে ১২ দলীয় জোট, আর জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে রয়েছে ১১টি রাজনৈতিক দল।
এছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোট, সিপিবিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তাদের জন্যও আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে আলোচনায় থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি তারা বিএনপির সঙ্গে জোটে যাচ্ছে কি না।
বিএনপি ঘোষণায় দেখা যায়, ঢাকার সাতটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে, যেখানে জোট-সঙ্গীদের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না রাজধানীর যেকোনো একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি লড়তে পারেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫, আর জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব লড়বেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে।
এছাড়া বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এর জন্য চট্টগ্রাম-১৪, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এর জন্য কুমিল্লা-৭, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এর জন্য ঢাকা-১৭, এবং এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এর জন্য ঢাকা-১৩ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর পর আমরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। বিএনপি প্রায় ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা দিয়েছে। যেসব আসনে আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের সহযোগী দলগুলো প্রার্থী ঘোষণা করবে, বিএনপি সেগুলোতে সমন্বয় করে নেবে।”
মির্জা ফখরুল আরও জানান, দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন বেগম খালেদা জিয়া, আর বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
Leave a Reply