1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

তীব্র সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ!

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৩৬ Time View
তীব্র সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ!

জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে সনদের পরিবর্তন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এ নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দলটির অভিযোগ, ঐকমত্য কমিশন প্রতারণা করেছে। যে সনদের খসড়ার কথা বলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, চূড়ান্ত সনদ তার সঙ্গে মেলে না। এতে ঐক্যের বদলে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারি হয়ে গোল দিয়েছে, যা এক মহাবিতর্কিত নজির। তাদের মতে, ঐকমত্য কমিশন, সরকার এবং দু-তিনটি রাজনৈতিক দল একই পক্ষের ভূমিকা পালন করছে। বিএনপির এই প্রতিক্রিয়ায় সমর্থন জানিয়েছে তাদের সমমনা দলসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক সংগঠন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। জামায়াতের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়মতো না হলেও আগে গণভোট দিতে হবে। আর এনসিপি মনে করছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া না দেখেই বিএনপি ভুল করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলোর এই বিভাজন দেশে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে।

গত ২৮ অক্টোবর বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সুপারিশসহ ‘জুলাই সনদ-২০২৫’ সরকারের কাছে জমা দেয় ঐকমত্য কমিশন। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে—সনদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত বাদ দেওয়া। অনেক দলের ক্ষোভ, এই অংশ বাদ দেওয়ায় গণভোটের প্রস্তাব একপেশে হয়ে গেছে। পাশাপাশি আগামী সংসদকে সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত করার যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেটিও নতুন সংকট তৈরি করেছে।

বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল আশঙ্কা করছে, গণভোটে জনগণের সম্মতি পেলেও ভোটের সংখ্যানুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দেবে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম, ঐকমত্য কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আসবে। আমি একে ‘আংশিক ঐকমত্য কমিশন’ বলি, কারণ এটি সব দলের মতামত নেয়নি।” তার মতে, কমিশন নিজেদের পূর্বপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে এবং বিএনপিকে বিভ্রান্ত করেছে। তিনি বলেন, “কমিশন জুলাই সনদের নামে দেশে ধোঁয়াশা তৈরি করছে, যাতে কিছু গোষ্ঠী ক্ষমতায় থেকে সুবিধা নিতে পারে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ঐকমত্য কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা বিস্মিত হয়েছি, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নোট অব ডিসেন্টগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই ঐকমত্য হতে পারে না।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকেই নিতে হবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “সত্যিকার অর্থে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই দেশের সংকট সমাধান করতে পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদই সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে। আমরা আগস্টের পরই নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তখন আমাদের ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় দেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিভক্ত হচ্ছি, অথচ এই সময় ঐক্যের সময়। ন্যূনতম বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো এখন জরুরি।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ঐক্য সৃষ্টি করা, কিন্তু তাদের সুপারিশে জাতি বিভক্ত হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনে স্বাক্ষরিত দলিল নেই, শুধু কমিশনের প্রস্তাব আছে। “রেফারির কাজ ছিল নিরপেক্ষ থাকা, কিন্তু রেফারি নিজেই গোল দিয়েছে,” বলেন তিনি। তার মতে, কমিশন ও সরকার এবং কয়েকটি দল একই পক্ষে থেকে কাজ করেছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “সংসদ নির্বাচন সময়মতো না হলেও জুলাই সনদের গণভোট আগে দিতে হবে। জুলাই সনদ হচ্ছে সংস্কারের দলিল—জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একত্রে করা ঠিক হবে না।”

বাম দলগুলোও সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হওয়ার প্রস্তাব বিশ্বের কোথাও দেখা যায়নি।” নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “সনদ বাস্তবায়নের অধ্যাদেশের কথা সংবিধানে নেই। এটি পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।”

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের ৯ মাসের কার্যক্রম পণ্ডশ্রমে পরিণত হয়েছে। তাদের প্রস্তাব আদালতে টিকবে না, কারণ বিদ্যমান সংবিধান থাকতে এমন আদেশ বৈধ নয়।” গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, “জুলাই সনদের নামে এখন বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এতে ড. ইউনূসও দায় এড়াতে পারেন না।”

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি মনে করেন, “নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে কাউকে কিছু চাপিয়ে দিলে রাজনৈতিক সংকট বাড়বে।” বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হবে—এটি প্রহসন।”

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া না দেখেই সনদে সই করে বিএনপি ভুল করেছে। এখন অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে লাভ নেই।” তিনি বলেন, “জুলাই সনদকে আমরা ফাঁকা বুলি মনে করি না। এর আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি। সরকার যদি আইনি ভিত্তি সম্পন্ন আদেশ গ্রহণ করে, তবেই সনদ স্বাক্ষর করা উচিত।”

এভাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ ঘিরে একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর আশাবাদ, অন্যদিকে সন্দেহ ও ক্ষোভ—সব মিলিয়ে জাতীয় ঐক্যের বদলে এক নতুন রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে দেশ আবারও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme