মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে পরিচালিত এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের সার্ভার দীর্ঘ ১৪ দিন ধরে সম্পূর্ণ অচল থাকায় সারাদেশের হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় এমপিও আবেদন, ইনডেক্স ডিলেট, নাম ও তথ্য সংশোধন, প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আপডেটসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
ইএমআইএস সেল সূত্রে জানা গেছে, সার্ভারের মূল সার্ভার ইউনিটে গুরুতর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়ার পর থেকে পুরো সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল আইটি বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা সার্ভারের ডেটাবেইস ও নেটওয়ার্ক সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তবে কখন নাগাদ সার্ভার পুনরায় সচল করা যাবে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে দীর্ঘ সময় সার্ভার বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক কাজ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস, আঞ্চলিক অফিস এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় হাজার হাজার ফাইল ও আবেদন জমে আছে। নতুন এমপিও আবেদনকারীরা এখন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, কারণ সার্ভারে লগইন না হওয়ায় তারা আবেদন জমা দিতে পারছেন না। আবার যাদের ইনডেক্স বাতিল, তথ্য সংশোধন বা নাম পরিবর্তনের কাজ চলছিল, তাদের প্রক্রিয়াও মাঝপথে থেমে গেছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেন, “দুই সপ্তাহ ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠানপ্রধান প্রতিদিন লগইন করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সার্ভারে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এমপিও আবেদন ফাইল সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সময় বেঁধে দেওয়া আছে, কিন্তু আমরা অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছি। প্রতিষ্ঠান থেকে চাপ আসছে, অথচ কিছুই করার নেই।”
আরও অনেক শিক্ষক একই অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, ইএমআইএস সার্ভারের সমস্যার কারণে শিক্ষা প্রশাসনের ডিজিটাল কার্যক্রম প্রায়ই ব্যাহত হয়। কখনো ইনডেক্স আপডেট হয় না, কখনো নতুন নিয়োগ বা বদলির আবেদন আটকে যায়। অনেক সময় সার্ভার সমস্যার কারণে অনলাইন পেমেন্ট ভেরিফিকেশন বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য সংশোধনের কাজও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইএমআইএস সেলের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “কারিগরি সমস্যার কারণে সার্ভার ডাউন হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে আইটি টিম কাজ শুরু করেছে এবং সার্ভার যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় সচল করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, ইএমআইএস সিস্টেমে প্রচুর ডেটা ও ব্যবহারকারী সংযুক্ত থাকায় সার্ভারে চাপ পড়ে। এছাড়া সফটওয়্যার আপডেট বা ডেটাবেইস রক্ষণাবেক্ষণের সময় কিছু সময়ের জন্য সার্ভার বন্ধ রাখতে হয়। তবে এবারকার সমস্যা কিছুটা জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেছে।
শিক্ষক সমাজ বলছেন, দেশে শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটাল হলেও মাউশির সার্ভার সমস্যার কারণে অনলাইন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তারা মনে করছেন, ইএমআইএস সার্ভারের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাউশিকে আরও পেশাদার ও আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
একজন আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “প্রায়ই সার্ভার ডাউন থাকে। এতে ফাইল আপলোড, আবেদন যাচাই, অনুমোদন বা ইনডেক্স যাচাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিদিন যোগাযোগ করছেন, কিন্তু আমরা নিজেরাও কিছু করতে পারছি না।”
সবশেষে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—মাউশির সার্ভার যেন দ্রুত সচল করা হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের জটিলতা না হয়, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকনিক্যাল সমাধান নেওয়া হয়। তারা বলেন, শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করার জন্য ইএমআইএস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম; এটি বন্ধ থাকলে শিক্ষাক্ষেত্রের কার্যক্রমই বাধাগ্রস্ত হয়।
আপনি চাইলে আমি এই প্রতিবেদনটি সংবাদপত্র উপযোগী করে (শিরোনাম, সাবহেড, উদ্ধৃতি ও কাঠামোসহ) সাজিয়ে দিতে পারি — কি আপনি তেমনভাবে চান?
Leave a Reply