1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
Title :
যে দুই কারণে আটকে আছে পে স্কেল যে কোন সময় মন্ত্রীসভায় রদবদল আসছে বড় ধরনের চমক এমপিও শিক্ষকগণ বদলি আবেদনের জন্য কতদিন সময় পাবেন জানাল মাউশি নতুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে যাদের নাম চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পে স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার, বিকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি পুর্নগঠনে বিএনপির বাঁধা দেওয়ার কারণ

  • Update Time : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৪০ Time View
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি পুর্নগঠনে বিএনপির বাঁধা দেওয়ার কারণ

বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশের শিক্ষা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নেতাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসতে চাইছে। বিএনপি নেতারা যুক্তি দেখিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা সরকারি মানসিকতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বহন করেন, যার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নির্বাচনের কাজেও বাধাগ্রস্ত করবে— এমন দাবি জানিয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিকভাবে গঠিত ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অথচ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করেই ১ নভেম্বরের মধ্যে নতুন করে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়।

বিএনপির মতে, শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি প্রভাব নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিচালনা শিক্ষার মানোন্নয়নে বেশি সহায়ক। সরকারি কর্মকর্তারা পেনশনভুক্ত এবং সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। দলটির নেতাদের দাবি, সরকার এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে আমলাতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে। বিএনপি এ কারণেই ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে ইসিতে আবেদন জমা দেয়। বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ড. আবদুল মঈন খান, যিনি ইসিতে লিখিত প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, এই কার্যক্রমের কারণে সারাদেশে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে জাতীয় নির্বাচনের মতো বৃহৎ কর্মকাণ্ডের পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ম্যানেজিং কমিটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করার জন্য। সরকারের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্বচ্ছভাবে কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চেয়েছিল সরকারি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এমন কমিটি গঠন করতে, যারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে পারবে। কিন্তু বিএনপি ও কিছু মহলের আপত্তির কারণে এবং আইনি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট সরকার স্কুল ও কলেজে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা সভাপতি হতে পারবেন। অর্থাৎ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পাবলিক সার্ভেন্ট ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। এই ধারা বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করেন। তিনি বলেন, আগে সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হতেন, এখন সেটি পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রিটের পর আদালত সংশোধিত ১৩(১) এবং ৬৪(৩) বিধির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করে এবং অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্তি ও নিয়মিত কমিটি গঠনের পরিপত্র স্থগিত করে। ফলে এখনো মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অ্যাডহক কমিটিগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা রুলের জবাব দেবে, তবে আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আপাতত কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের রাখার বিধান করা হলেও ভবিষ্যতে বেসরকারি চাকরিজীবী বা স্থানীয় শিক্ষিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, মাস্টার্স পাসের পরিবর্তে স্নাতক পাসের যোগ্যতা রাখার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে, কিন্তু এসব বিষয় সংশোধনের জন্য আদালত বা ইসিতে না গিয়ে সরাসরি প্রস্তাব দেওয়া যেত। তিনি মনে করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।

অন্যদিকে, শিক্ষাবিদদের একটি অংশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার চিন্তা অবশ্যই ভালো, কিন্তু কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের রাখার সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়। তার মতে, স্থানীয়ভাবে শিক্ষিত, সমাজসেবক ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “সবক্ষেত্রে আমলাদের রাখার চিন্তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখেছি, অনেক মানুষ রয়েছেন যারা নিজ উদ্যোগে স্কুল করেছেন, সেটি পরিচালনা করছেন, অথচ তাদের কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা নেই। সরকার চাইলে এমন মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারত।”

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বিরোধী দল বিএনপি এটিকে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। আদালতের স্থগিতাদেশে এই নীতিমালা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের উচিত হবে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে ভারসাম্য রেখে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নীতিমালা তৈরি করা, যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থে হয় স্বচ্ছ, স্বায়ত্তশাসিত এবং জবাবদিহিমূলক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme