একসময় দেশের এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে বেতন-ভাতা পেতেন। এতে প্রতিমাসেই লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এই জটিলতা দূর করতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চালু করা হয় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি। এর ফলে মাস শেষে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বেতন-ভাতা পেতে শুরু করেন।
তবে দেশের প্রায় ৯ হাজার আলিয়া মাদ্রাসার ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এখনো এই আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছেন। তারা এখনও পুরোনো কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়ায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য দুঃসহ এক ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, বেতন পেতে গেলে আগে এমপিও শিটে ম্যানেজিং কমিটি বা এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর নিতে হয়। এরপর সেই বিল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দপ্তরে জমা দিতে হয়। পাশাপাশি ব্যাংকেও সভাপতির স্বাক্ষরসহ বেতন শিট জমা দিতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি ম্যানেজিং বা এডহক কমিটি না থাকে, তাহলে ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পরই ব্যাংকে চেক জমা দেওয়া সম্ভব হয়। এসব দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে মাসের ১০ তারিখ পার হয়ে যায়, ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা সময়মতো বেতন পান না। আর বোনাসের অর্থ জমা হতে আরও বিলম্ব ঘটে।
শিক্ষকরা আরও জানান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বহুদিন ধরে তাদের ইএফটির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে আসছে। কিন্তু বাস্তবে এ সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমই শুরু হয়নি। কবে নাগাদ এই পদ্ধতিতে যুক্ত করা হবে, সে বিষয়েও তারা কিছু জানেন না।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানায়, বেসরকারি এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সহজে প্রদানের লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইএফটি চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন। জুলাই থেকে এ সুবিধার আওতায় এসেছে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। কিন্তু একমাত্র আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এখনো এই প্রক্রিয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, ইএফটিতে যুক্ত করার জন্য তাদের কাছ থেকে এখনো কোনো তথ্য বা ফরম চাওয়া হয়নি। বারবার মাদ্রাসা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাননি তারা।
বগুড়ার সৈয়দ আহমদ মডেল ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক (আইসিটি) মো. রিপন সরকার বলেন,
“ইএফটিতে যুক্ত না থাকায় আমাদের প্রতিমাসে বেতন পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্তমানে মাদ্রাসায় কোনো পরিচালনা কমিটি না থাকায় ইউএনওর স্বাক্ষর নিতে হয়। সেই স্বাক্ষর নেওয়া, চেক জমা দেওয়া এবং টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে যায়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন,
“এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ মাহবুবুল হকের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
তবে চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply