জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে বিএড ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষকদের স্কেল সমস্যা নিরসনে অবশেষে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কারণে দেশের হাজার হাজার শিক্ষক তাদের প্রাপ্ত ডিগ্রির স্বীকৃতি অনুযায়ী বেতন স্কেল পাচ্ছিলেন না। এবার এই জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, কমিটি ইতিমধ্যে অধিভুক্ত ৭৬টি কলেজ পরিদর্শনের কাজ শুরু করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এসব কলেজের মান যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে যারা এই পরিদর্শন কার্যক্রমে যুক্ত, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্বেও যুক্ত থাকায় অগ্রগতি তুলনামূলক ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সব কলেজের পরিদর্শন সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে—কোন কোন প্রতিষ্ঠানের বিএড ডিগ্রি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষকদের স্কেল দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক–২) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে বিএড ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষকদের স্কেল দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিষ্ঠান যাচাই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
একই বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক জানান, “আমরা নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করছি। যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিএড ডিগ্রি দেওয়া কলেজগুলোর মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তিনটি মূল দিক দেখা হচ্ছে—
১️⃣ কলেজের সামগ্রিক গুণগত মান,
২️⃣ প্রদত্ত সনদের মান ও গ্রহণযোগ্যতা,
৩️⃣ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্কুল পর্যায়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট কলেজের ডিগ্রি স্কেল প্রাপ্তির জন্য বিবেচনায় আসবে।
তথ্যমতে, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯২টি কলেজ বিএড কোর্স পরিচালনা করছে। কিন্তু মাউশি শুধুমাত্র ২৩টি কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষকদের স্কেল প্রদান করে আসছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সব কলেজের সনদ সমমানের। এর ফলে বাকি কলেজগুলোর শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিএড স্কেল থেকে বঞ্চিত।
বঞ্চিত শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, আদালতের এক রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নির্দেশ দেন যে, ২৩টি কলেজের বাইরে থেকে বিএড ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষকদের স্কেল দেওয়া যাবে না। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা কিছু রিটকারী কলেজের পক্ষে থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই নোটিশ জারি করেছিলেন। ফলে শত শত শিক্ষক আদালতের রায় সত্ত্বেও ন্যায্য স্কেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
শিক্ষক সমাজ এখন আশাবাদী, নতুন এই কমিটির তদন্ত ও যাচাই কার্যক্রম শেষ হলে বহুদিনের এই স্কেল জট শেষ হবে এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সব বিএডধারী শিক্ষক তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।
Leave a Reply