এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে অবশেষে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে আংশিক হলেও বাস্তবায়িত হলো শিক্ষকদের বহু পুরোনো দাবি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৫ অক্টোবর অর্থ বিভাগে পাঠানো এক বিস্তারিত প্রস্তাবনায় বাড়িভাতা বৃদ্ধির চারটি সম্ভাব্য হার উল্লেখ করেছিল— ২০, ১৫, ১০ এবং ৫ শতাংশ। প্রস্তাবে প্রতিটি হারের সঙ্গে সম্ভাব্য ব্যয়ও যুক্ত করা হয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী,
বাজেট বাস্তবতা, বর্তমান রাজস্ব ঘাটতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবকেই সর্বাধিক বাস্তবসম্মত বলে মনে করেছে অর্থ বিভাগ। এতে বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ২ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বহুদিন ধরেই বাড়িভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বাড়িভাতা অপরিবর্তিত থাকায় মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছিল।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, যদিও তাদের মূল দাবি ছিল মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া, তারপরও সরকারের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক অবস্থা অনুকূলে এলে অবশিষ্ট ৫ শতাংশও সমন্বয় করা হবে।
বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সংগঠন জাতীয়করণ প্রত্যাশি জোটের এক নেতা বলেছেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি— শিক্ষক সমাজ আজ মধ্যবিত্তের মধ্যেও সবচেয়ে কষ্টে আছে। ভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা— সব কিছুর খরচ বেড়েছে। ১৫ শতাংশ বাড়ানোটা কিছুটা স্বস্তি দিলেও প্রয়োজন ছিল অন্তত ২০ শতাংশ বৃদ্ধির।”
অর্থ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান রাজস্ব আয়, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এখনই ২০ শতাংশ বৃদ্ধির মতো আর্থিক বোঝা নিতে পারছে না। তবে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি একটি “সামঞ্জস্যপূর্ণ ও টেকসই সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থ বিভাগের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও। তাদের ভাষায়, “এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে এবং একইসঙ্গে সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতাও বজায় থাকবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা পরবর্তী বাজেট বরাদ্দে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রাথমিকভাবে আলোচনায় আছে। আগামী অর্থবছরে এই ভাতাগুলোতেও যৌক্তিক বৃদ্ধি আনার চেষ্টা করা হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি এক ধরণের “আংশিক জয়।” যদিও তারা এখনো পূর্ণ সন্তুষ্ট নন, তবু দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে বাড়িভাতা বৃদ্ধির এই ঘোষণা তাদের আন্দোলনে নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে।
Leave a Reply