বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন, আর বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ আগামী অর্থবছর (২০২৬-২৭) থেকে কার্যকর হবে।
চিঠিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
(ক) পরবর্তী বেতনস্কেল প্রবর্তনের সময় এই অতিরিক্ত সুবিধা সমন্বয় করতে হবে।
(খ) এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল খাতের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা (২০১৮ ও ২০২১ সালের সংশোধিত সংস্করণসহ) এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও আদেশ অনুসরণ করতে হবে।
(গ) বাড়িভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না।
(ঘ) ভাতা প্রদানের সময় সকল আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে মানতে হবে।
(ঙ) ভবিষ্যতে ব্যয় সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ তার দায়ভার বহন করবেন।
(চ) প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে জি.ও জারি করে তার চার কপি অর্থ বিভাগে পৃষ্ঠাংকনের জন্য পাঠাতে হবে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আজকের দিনটি শিক্ষা পরিবারের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” মন্ত্রণালয় জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চলতি নভেম্বর থেকেই মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ (ন্যূনতম ২,০০০ টাকা) হারে বাড়িভাড়া দেওয়া হবে, এবং ২০২৬ সালের জুলাই থেকে পূর্ণ ১৫ শতাংশ কার্যকর হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এই সিদ্ধান্ত নিতে পেরে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। শিক্ষকরা সমাজের শ্রদ্ধাভাজন শ্রেণি, তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “এই পথ সহজ ছিল না। নানা মতবিরোধ, বিতর্ক, ও প্রশাসনিক জটিলতা পেরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ন্যায্য ও টেকসই সমাধানে পৌঁছেছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, উপদেষ্টা পরিষদ ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সহযোগিতায় আমরা শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছি।”
মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করে, “এটি কারও একার অর্জন নয়; এটি সম্মিলিত সাফল্য। শিক্ষকদের আন্দোলন আমাদের বাস্তবতা চিনিয়ে দিয়েছে, আর সরকার দায়িত্বশীলভাবে সাড়া দিয়েছে। এই সমঝোতা হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সংলাপের জয়। এখন সময় শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলো ছড়ানোর।”
শেষে মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে— এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে। সম্মান, সংলাপ ও গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি মর্যাদাসম্পন্ন জাতিতে পরিণত হবে।
Leave a Reply