দেশব্যাপী সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। রবিবার (১৯ অক্টোবর) অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি নোটিশে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও দপ্তরের প্রধানদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গ্যাস লিকেজ ও অন্যান্য দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার ফলে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
১. প্রতিদিন অফিস বা শ্রেণিকক্ষ ত্যাগের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যেন বৈদ্যুতিক সংযোগ, ফ্যান, লাইট, কম্পিউটার, প্রিন্টার, এসি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে নিশ্চিত করেন।
২. অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক তার, এক্সটেনশন কর্ড, বা ত্রুটিপূর্ণ প্লাগ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি অগ্নি-নিরাপত্তা (ফায়ার সেফটি) টিম গঠন করে নির্দিষ্ট সময় পরপর নিরাপত্তা যাচাই ও মহড়া (ড্রিল) পরিচালনা করতে হবে।
৪. ভবনের প্রতিটি তলায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) স্থাপন ও নিয়মিত কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে।
৫. প্রতিষ্ঠান এলাকার আশপাশে দাহ্য পদার্থ বা জ্বালানিসামগ্রী জমা রাখা যাবে না।
এ ছাড়া নোটিশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। মাউশি মনে করছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সামান্য অসাবধানতা থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রতিটি কর্মচারীর ব্যক্তিগত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই হতে পারে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার।
শেষাংশে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন লাগা বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরকে জানাতে হবে, যাতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা যায়।
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে—এটাই মাউশির মূল নির্দেশনা।
Leave a Reply