নবম পে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে দুই মাস আগে, আর এরই মধ্যে কমিশন তাদের প্রাথমিক ধাপের কাজ শেষ করে এখন দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এবার কমিশন শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয়েই নয়, বেতন কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন নিয়েও কাজ করছে। চারটি ক্যাটাগরিতে অনলাইনে মতামত সংগ্রহের পর এখন কমিশন সেই মতামত বিশ্লেষণ করছে এবং দ্রুতই বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশন/সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে।
কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে প্রাপ্ত মতামতগুলো এখন বিশ্লেষণের পর্যায়ে আছে। এই মতামতগুলো চূড়ান্ত সুপারিশে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কমিশনের সভাপতি ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান জানিয়েছেন, “কার্যক্রম চলছে, খুব দ্রুতই অ্যাসোসিয়েশন ও সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা সুপারিশ জমা দিতে পারব।”
গত ১৪ আগস্ট প্রথম সভা করে নবম পে কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কমিশনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, এই মাসের মধ্যেই সব সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার চেষ্টা চলছে। এরপর অনলাইন মতামত ও প্রাপ্ত প্রস্তাবসমূহ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা হবে।
তবে এখনো পর্যন্ত একটি প্রশ্নই সরকারি চাকরিজীবীদের মনে সবচেয়ে বেশি দানা বেঁধেছে—বেতন কত শতাংশ বাড়বে? কমিশনের প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে মূল বেতন দ্বিগুণ হতে পারে বলে আভাস মিলেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষা উপদেষ্টা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “আমরা যে ইঙ্গিত পাচ্ছি তাতে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কিংবা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে।”
এছাড়া কমিশন এবার শুধু বেতন বাড়ানো নয়, বেতন বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যেও কাজ করছে। এজন্য স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের অনুপাত কমানোর এবং কিছু গ্রেড ভেঙে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতিমধ্যে অর্থ উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সরকারই নতুন পে স্কেল কার্যকর করতে চায়। তাই কমিশনের সুপারিশ ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে পেলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও খুব দ্রুত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা এখন তাকিয়ে আছেন নবম পে কমিশনের দিকে—কতটা বাড়বে বেতন, কেমন হবে নতুন কাঠামো, আর কবে নাগাদ বাস্তবায়ন শুরু হবে—সেই প্রতীক্ষাতেই দিন গুনছেন তারা।
Leave a Reply