বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে আবারও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, আলোচনার টেবিলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশাবাদ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে তাদের এই আহ্বান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্ত্রণালয়ের আহ্বান প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।
অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেন, “আমি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ছিলাম, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ফোন করে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, এখন আর কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। অনেক আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো বাস্তব ফল আসেনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা মানে ২০ শতাংশই; ১,৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা মানে ঠিক ১,৫০০ টাকাই; এবং উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশই হতে হবে। এই তিন দফা দাবির কোনো অংশে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” শিক্ষা উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “তিনি হয় আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেবেন, নয়তো পদত্যাগ করবেন।”
আজীজি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষক আমরণ অনশন কর্মসূচিতে রয়েছেন, বাকিরা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছিল, শিক্ষা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী ১০ শতাংশ বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব তোলার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই। দীর্ঘদিন আন্দোলন চলতে থাকলে শুধু শিক্ষক-কর্মচারীরাই নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু সমস্যার মূল জায়গা অর্থ মন্ত্রণালয়—তাদের হাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। তারা জানিয়েছে, আপাতত ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই আলোচনাই এখন একমাত্র পথ।”
প্রসঙ্গত, গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাতা মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলে শিক্ষকরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকে তিন দফা দাবিতে তারা টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৩ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের পর আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। সেই থেকে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৫ অক্টোবর শাহবাগ মোড় আড়াই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শিক্ষকরা। পূর্ব ঘোষণানুযায়ী ১৭ অক্টোবর ‘যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা’ করার কথা থাকলেও শিক্ষা উপদেষ্টার অনুরোধে সেটি স্থগিত করা হয়। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ওই দিন থেকেই শিক্ষকরা অনশন শুরু করেন।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) তারা শহীদ মিনার থেকে কালো পতাকা মিছিল বের করে তাদের অনড় অবস্থানের ঘোষণা দেন।
Leave a Reply