বাড়িভাড়া, মেডিকেল ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। শুক্রবার দুপুর থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবুও আন্দোলন থামছে না। বরং আরও জোরালো কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আগামীকাল রবিবার (১৯ অক্টোবর) ‘ভুখা মিছিল’ করবেন তারা। শহীদ মিনার থেকে থালা-বাটি হাতে নিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে এই মিছিল যাবে। প্রতীকী এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার ও জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের উদ্দেশ্য।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল ভুখা মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে ১০০ জন শিক্ষক আমরণ অনশন করছেন, বাকিরা অবস্থান কর্মসূচিতে রয়েছেন। আমরা আর পিছু হটব না।”
‘ভুখা মিছিল’ এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাস্তায় মিছিল করে নিজেদের দাবির প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সাধারণত খাদ্য সংকট, ন্যায্য মজুরি না পাওয়া, অর্থনৈতিক বৈষম্য বা সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়। এবার সেই প্রতীকী কর্মসূচিতে নামছেন দেশের শিক্ষকরা।
দেলোয়ার হোসেন আজিজী আরও বলেন, “আমাদের দাবির বিষয়টি খুবই স্পষ্ট—২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া মানে ২০ শতাংশই; ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা মানে ১৫০০ টাকাই। এখানে কমানোর বা কাটছাঁটের কোনো সুযোগ নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার দাবি পূরণের ঘোষণা না দেবে, ততক্ষণ সারা দেশের শিক্ষকরা রাজপথ ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আমরা রক্ত দেব, কিন্তু দাবি আদায় করবই।”
শিক্ষকদের এই দীর্ঘ আন্দোলন এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। তাদের অনশন, ভুখা মিছিল ও দৃঢ় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই আন্দোলন কোনোভাবেই স্বল্পমেয়াদি নয়; বরং দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply