প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেসসচিবের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলমান অনশন কর্মসূচিতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী জানান, উপ প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের বক্তব্য শিক্ষকদের মর্যাদায় আঘাত করেছে এবং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপমানজনক।
তিনি বলেন, “উপ প্রেসসচিব বলেছেন, এমপিও শিক্ষকরা ঘুষের মাধ্যমে এমপিও হয়েছেন। আমরা এই বক্তব্যের কঠোর নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
এর আগে সকালে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি লিখেন, “বছরের পর বছর রাজনৈতিক বিবেচনায়, তদবিরের জোরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক থাকুক বা না থাকুক, কোনো রকম একটা ছাপড়ি ঘর হলেই এমপিও হয়েছে।”
এই মন্তব্যের পরপরই অনশনরত শিক্ষকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দাবি করেন, এমন মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের লাখো শিক্ষককে ঘুষখোর ও অনৈতিক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে— যা শিক্ষক সমাজের জন্য অবমাননাকর।
অনশনস্থলে উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, তারা শুধুমাত্র ন্যায্য প্রাপ্য বাড়িভাড়া ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন। অথচ সরকারপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে এমন অপমানজনক মন্তব্য করেছেন— যা তারা কখনোই মেনে নেবেন না।
অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী আরও বলেন, “আমরা চাই সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদ দ্রুত এই মন্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা করুন। তা না হলে এই আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
এরই মধ্যে বেতনভাতার দাবিতে এমপিও শিক্ষকরা টানা আন্দোলনে রয়েছেন। মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তারা শুক্রবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন শুরু করেছেন। এ সময় তারা ঘোষণা দেন, শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজপথে কালো পতাকা মিছিল এবং রোববার (১৯ অক্টোবর) সারাদেশ থেকে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
দেলোয়ার আজিজী বলেন, “আমাদের দাবি না মানলে সারাদেশের স্কুল-কলেজে সব ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ থাকবে। শুরু হবে লাগাতার কর্মবিরতি।”
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরারের সঙ্গে আলোচনায় বসেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। আলোচনার পর শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান চালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া মাত্র ৫০০ টাকা বাড়ায়, যা শিক্ষকরা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই তারা তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে।
গত ১৩ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান শুরু করেন। ১৫ অক্টোবর তারা শাহবাগ মোড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরোধ করেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা’র ঘোষণা থাকলেও, রাজনৈতিক দলের অনুরোধে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
দেলোয়ার আজিজী বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো অনুরোধ করেছে, এখন পদযাত্রা করলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে। কিছু অপশক্তি আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে পারে। তাই আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখছি। কিন্তু যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না আসে, তাহলে এখানেই আমরা আমরণ অনশন শুরু করব।”
Leave a Reply