অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলনের পর শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আলোচনার দ্বার খুলেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরের যেকোনো সময় ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, “শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি আমরা ইতিবাচকভাবে নিয়েছি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একবারে ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব নয়—এটি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্যই শিক্ষক নেতাদের মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “শিক্ষক নেতারা আসবেন, এবং উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের বিস্তারিত আলোচনা হবে। আমরা আশা করছি, আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে।”
এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা সেই আলোচনায় অংশ নেব।”
শিক্ষক মহলে আলোচনার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই আশা করছেন, এর মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের একটি কার্যকর সমাধান মিলবে এবং শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি পূরণের পথে নতুন অগ্রগতি ঘটবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, “বর্তমানে শিক্ষক সংগঠনগুলো মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য যৌক্তিক দাবি তুলেছেন। সরকারের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমানে ৫ শতাংশ (ন্যূনতম দুই হাজার টাকা) বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনাধীন রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে আগামী বছর আমরা শিক্ষকদের জন্য আরও সম্মানজনক ও টেকসই বেতন কাঠামোর দিকে এগোতে পারব। সরকার শতাংশভিত্তিক বাড়িভাড়া বিষয়ে শিক্ষক সমাজের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সংবেদনশীল।”
অধ্যাপক আবরার আরও যোগ করেন, “সামর্থ্য অনুযায়ী শতাংশভিত্তিক বাড়িভাড়া প্রদানের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। পাশাপাশি আমরা শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি—কারণ বেতন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সম্মান ও দক্ষতাও সমানভাবে অপরিহার্য।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে সরকার ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে একটি গঠনমূলক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
Leave a Reply