বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তিনটি মৌলিক দাবি—মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় এ দাবিগুলো পূরণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৯টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি। সূত্রটি জানিয়েছে, সব হিসাব-নিকাশ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিক্ষকদের জন্য ‘সুখবর’ আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা সোমবার রাতে জানান, “অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে হিসাবও করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই শিক্ষকদের দাবি পূরণের ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হবে।”
তবে অর্থ উপদেষ্টা ও সচিব বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব কি না জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টা সরাসরি অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাই তারা দেশে না থাকলেও সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। শিক্ষকরা হয়তো মঙ্গলবারই (১৪ অক্টোবর) সুখবর পাবেন।”
দাবিগুলোর মধ্যে কোনটি কতটা পূরণ হতে পারে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, “শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী বাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ করা হতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার বিষয়টি আলোচনায় আছে। এছাড়া কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
এদিকে, ন্যায্য দাবির পক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষকরা আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। নতুন কর্মসূচি হিসেবে দুপুরে তারা ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করবেন। শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
সোমবার বিকেলে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি বক্তব্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “রাতের মধ্যেই যদি প্রজ্ঞাপন বা কোনো ঘোষণা না আসে, তাহলে আমাদের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হবে। ‘লং মার্চ’ ও লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না, তবে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে এক কানাকড়িও ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার যদি দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে শিক্ষক সমাজও দায়িত্বশীল আচরণ করবে। কিন্তু দেরি হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।”
Leave a Reply