বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাতা শতাংশ হারে বৃদ্ধি করার প্রস্তাবটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের টেবিলে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ এখন নতুন করে সম্ভাব্য শতাংশ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ নতুন পরিপত্র জারি হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তারা।
অর্থ বিভাগের এক উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে জানান, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বিবেচনার চিঠি আমরা পেয়েছি। এখন দেখতে হবে—কত শতাংশ বৃদ্ধি করা যায়, এবং সেটি বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক যোগান কীভাবে মেটানো সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের মতো জুনিয়র কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে পারি না। অর্থ সচিব ও অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদনের পরই পরিপত্র জারি হবে। তাই এতে কিছুটা সময় লাগবে।”
অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও প্রতিশ্রুত ভাতা বৃদ্ধি না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ। তাদের দাবি—বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। এ দাবির প্রেক্ষিতে আগামীকাল রবিবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেন, “রবিবার থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করব। সরকার যদি গড়িমসি করে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট একই জোটের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত বিশাল শিক্ষক সমাবেশে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নিয়েছিলেন। সেদিন শিক্ষা উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—শিক্ষকদের বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু দুই মাস পার হলেও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, ফলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ৩০ সেপ্টেম্বর এক পরিপত্রে বেসরকারি শিক্ষকদের বাড়ি ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করে। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখার উপসচিব মোসা. শরীফুন্নেসা। তবে এ আদেশে শিক্ষকরা প্রবল প্রতিবাদ জানান, কারণ তারা শতাংশ হারে বৃদ্ধির দাবিতে অনড় ছিলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরারের এক চিঠির ভিত্তিতে ওই ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হলেও শিক্ষক সমাজের মতে, এটি কেবল ‘চোখে ধুলা দেওয়ার’ চেষ্টা। তাদের ভাষায়, “আজকের বাজারদরে স্থির বাড়ি ভাতা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়; প্রয়োজন বাস্তবসম্মত শতাংশ হারে বৃদ্ধি।”
এখন সব দৃষ্টি নিবদ্ধ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপে—তারা কি শিক্ষক সমাজের দাবি অনুযায়ী বেসিকের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা ঘোষণা করবে, নাকি আবারও ‘আংশিক সমাধান’ দিয়ে ক্ষোভ আরও বাড়াবে? আগামী কয়েক সপ্তাহেই তার উত্তর মিলবে।
Leave a Reply