বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি— বেসিক বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা এবং ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা—বাস্তবায়নের দাবিতে আগামীকাল রবিবার (১২ অক্টোবর) থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছেন। দাবি আদায় না হলে এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষক নেতারা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, “রবিবার থেকে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। সরকার যদি এখনো আমাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে লাগাতার অবস্থানের পাশাপাশি আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হবো।”
জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক বিশাল শিক্ষক সমাবেশে লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নিয়েছিলেন। সেই সমাবেশে শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেসিক বেতনের ২০% বাড়ি ভাতা, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় শিক্ষক সমাজে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের উদ্যোগে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে শান্তিপূর্ণ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি, যার মূল দাবি—
উল্লেখ্য, এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের বাড়ি ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের এক চিঠির প্রেক্ষিতে এই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু শিক্ষক সমাজ এ সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে, কারণ এটি শতাংশ হারে নয়, বরং নির্দিষ্ট অঙ্কে বাড়ানো হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখা থেকে ভাতা বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ৫ অক্টোবর সেটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। উপসচিব মোছা. শরীফুন্নেসা স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়,
“বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হলো। এ ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় কোনো অনিয়ম দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।”
তবে শিক্ষক নেতারা বলছেন, এই পরিপত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ শিক্ষক সমাজের দাবি ছিল বেসিক বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা এবং স্বতন্ত্র মেডিকেল ভাতা, যা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই সরকারের আশ্বাস পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, এমনটাই জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply