বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি আবারো নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট শতাংশ হারে ভাতা নির্ধারণ করা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে শতকরা হারে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেখানে ৫, ১০, ১৫ এবং ২০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা অবশ্যই শতকরা হারে হবে, তবে কত শতাংশ হারে হবে তা নির্ধারণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।”
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা দিয়েছে, বর্তমান ৫০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আসলে পূর্বে দেওয়া একটি ডিও লেটারের প্রতিফলন। সেই ডিও লেটারে বাড়িভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা এবং চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধির কোনো প্রতিফলন এই প্রজ্ঞাপনে নেই। এখানেই উঠছে প্রশ্ন—যদি ডিও লেটারকে অনুসরণ করেই প্রজ্ঞাপন হয়, তবে কেন চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধির অংশটি বাদ দেওয়া হলো?
জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দাবি জানিয়েছেন, এই ৫০০ টাকা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তার মতে, এই প্রজ্ঞাপন শিক্ষকদের প্রকৃত দাবিকে আড়াল করার এক কৌশল মাত্র এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা।
শিক্ষক সমাজের বড় একটি অংশ মনে করছে, এ প্রজ্ঞাপনের পেছনে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র আছে। কারণ একটি ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধানের দিকে আলোচনা এগোতে থাকলেও হঠাৎ করেই সীমিত ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলো। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সচিবালয়ের ভেতরে এখনও পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা সক্রিয় রয়েছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে যাতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায় এবং শিক্ষক সমাজের ক্ষোভকে উসকে দিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা যায়।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—শিক্ষকদের ১২ অক্টোবরের আন্দোলনকে আরও জোরদার করা। সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারীদের উচিত এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করা। একইসঙ্গে শিক্ষক নেতাদেরও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে, যাতে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষক সমাজের প্রকৃত দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।
৫০০ টাকার ভাতা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি প্রহসন। কারণ বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই সামান্য বৃদ্ধি শিক্ষকদের জীবনমানের কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। বরং এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে প্রকৃত সমাধানকে বিলম্বিত করা হচ্ছে। তাই শিক্ষক সমাজের এখন করণীয় হলো আন্দোলন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একসাথে চালিয়ে যাওয়া, যাতে শতকরা হারে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হয় এবং অযৌক্তিক প্রজ্ঞাপনকে বাতিল করা যায়।
Leave a Reply