এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ভাতা কোনদিন বা এই সপ্তাহের মাঝামাঝিতে পাবেন এটা মোটামুটি সবাই বিভিন্নভাবে জেনে গেছেন। কিন্তু এই পাওয়াটা কি আমাদের মধ্যে কোন প্রশ্নের সৃষ্টি করল না। এই পাওয়াটা কি আমাদের মধ্যে কোন প্রকার বৈষম্যের জন্ম দিল না। গত ২ তারিখ শেষ হলো সনাতন ধর্মাম্বলীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা সরকার কি ইচ্ছা করলে এই পুজার পূর্বে সরকারী কর্মচারীদের ন্যায় রুটিন মাফিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনভাতা দিতে পারতেন না।
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন আইবাসে জমা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তারা সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা হাতে পাবেন বলে জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্গাপূজার ছুটির কারণে চলতি সপ্তাহে অফিস কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ফলে বেতনের কার্যক্রমও পিছিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, আগামী সোমবার (৬ অক্টোবর) অথবা মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা মোট ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে স্কুলে রয়েছেন ২ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ জন এবং কলেজে রয়েছেন ৮৬ হাজার ১৭৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আগামী সপ্তাহে তাদের সবার বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রশ্নটা আমার ঐখানে করতে ইচ্ছা করছে কেন দূর্গাপূজার আওতাভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী কি এমপিওভুক্ত পেশায় নেই। পূজার ছুটিতে ছুটি কাটাতে সচিবরা বা সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাড়াহুড়া করে পরিবার পরিজনদের কাছে চলে গেছেন ছুটির আমেজ কাটাতে ভালো কথা তারা যেতেই পারেন কিন্তু যাওয়ার আগে একবারও তাদের মনে প্রশ্ন জাগলো না যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা যারা পুজার আওতাভুক্ত তারা কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে পুজা পাড়ি দিচ্ছে। অন্য ধর্মের শিক্ষকদের কথা না হয় বাদই দিলাম। উৎসবের পূর্বেই কি সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষকদের কথা ভেবে সেপ্টেম্বর মাসের বেতনটা পুজার ছুটিতে যাওয়ার পূর্বে দেওয়া যেত না। চেষ্টা করলে অবশ্যই যেত। ছুটিতে যাওয়ার পূর্বে যদি সরকারী চাকুরীজীবীরা তাদের বেতন পায় তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা কেন তাদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পুজার পরে পাবেন? যে সকল সকল সচিবালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছুটিতে গেছেন তারা তো ঠিকই তাদের বেতন নিয়েই ছুটিতে গেছে। তাহলে আমাদের বেলায় কেন এই বৈষম্য এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের দেশের সরকার ব্যবস্থা যদি দিতেন? এভাবে কতকাল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বৈষম্যের চাদরে মুড়িয়ে রাখবেন মাননীয় কর্তৃপক্ষ। আপনাদের এই অশালীন নীরবতাই কিন্তু একসময় আমাদের বিদ্রোহী হতে বাধ্য করবে। মনে রাখবেন পানিও কিন্তু একসময় ঘনীভুত হয়ে কঠিন শিলায় পরিণত হয় আশা রাখি মনে রাখবেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের বৈষম্যে থেকে দুরে থাকবেন আশা রাখি।
ী
Leave a Reply