1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
Title :
যে দুই কারণে আটকে আছে পে স্কেল যে কোন সময় মন্ত্রীসভায় রদবদল আসছে বড় ধরনের চমক এমপিও শিক্ষকগণ বদলি আবেদনের জন্য কতদিন সময় পাবেন জানাল মাউশি নতুন রাষ্ট্রপতি হিসাবে সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে যাদের নাম চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পে স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার, বিকল্প বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি

নতুন বাজেট থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার কথা তাহলে কেন এত সময়ক্ষেপন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৯৯ Time View
নতুন বাজেট থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার কথা তাহলে কেন এত সময়ক্ষেপন

২০২৫–২৬ অর্থবছর শুরু হয়েছে ১ জুলাই থেকে। রাষ্ট্রীয় বাজেটের আওতায় দেশের সকল মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও খাতসমূহে নির্ধারিত বরাদ্দ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে যথারীতি। অথচ বিস্ময়করভাবে এখনো বঞ্চিত রয়ে গেছেন দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকবৃন্দ—বিশেষত সরকারি বিধান অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে।

একটি মৌলিক ও ন্যায়সংগত দাবির প্রশ্নে আজও প্রজ্ঞাপন অনুপস্থিত। অথচ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি উচ্চারিত হয়েছিল রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকেই।

প্রতিশ্রুতির স্মৃতি, বাস্তবায়নের অনুপস্থিতি

সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ তাঁর দায়িত্বকালীন শেষ সময়ে শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের আশ্বস্ত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন—২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতাসহ সকল প্রকার ভাতাগত বৈষম্য দূর করা হবে।
এটি ছিল কেবল এক মধুর আশ্বাস নয়, বরং ছিল রাষ্ট্রীয় স্তরে উচ্চারিত একটি নৈতিক অঙ্গীকার—যার ভিত্তিতে শিক্ষক সমাজ আশাবাদী হয়ে বাজেট কার্যকর হওয়ার প্রতীক্ষায় ছিলেন।

কিন্তু আজ, বাজেট কার্যকর হওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, এমনকি গত ১৩ আগষ্ট দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরণেও নানাপ্রকার টালবাহানা শুরু করা হয়েছে। যেভাবে কাজের অগ্রগতি হচ্ছে তাতে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কতটুকু অগ্রগতি তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। আর এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবী আদায় ছাড়া উপায় থাকবে না।

শিক্ষক কেন পাবেন না সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ভাতা?

একই গ্রেডে কর্মরত অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীরা যেখানে বেতনের ৪৫%-৫০% হারে নিয়মিতভাবে বাড়িভাড়া ভাতা পাচ্ছেন, সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান সর্বসাকল্যে মাত্র ১,০০০ টাকা—যা বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় অত্যন্ত অবমাননাকর, অযৌক্তিক এবং মানবিক মর্যাদাবিরোধী।

বর্তমানে শিক্ষা উপদেষ্টা যে ২০% বাড়িভাড়া ও ১৫০০টাকা চিকিৎসা ভাতার আশ্বাস দিয়েছেন তা নিয়েও নানাপ্রকার টালবাহানা চলছে।

গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই অর্থে ভাড়া পাওয়ার মতো বাসস্থান খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। এটি নিছক আর্থিক বৈষম্য নয়, বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক বৈদিক কাঠামোয় শিক্ষকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অবহেলার প্রকাশ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এই অযাচিত বৈষম্য তাঁদের পেশাগত প্রেরণাকে খর্ব করে, মর্যাদা খাটো করে এবং শিক্ষাক্ষেত্রের মৌলিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে তোলে।

যেখানে শিক্ষকরা পথনির্ভর হয়েছেন আন্দোলনে, সেখানেও এসেছে আশ্বাস

বাড়িভাড়া ভাতাসহ জাতীয়করণের দাবিতে “এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট”–এর ব্যানারে শিক্ষক নেতারা টানা ২২ দিন রাজপথে অবস্থান করেছিলেন। তীব্র দাবির মুখে শিক্ষা উপদেষ্টার পক্ষ থেকে উচ্চারিত আশ্বাসটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার একমাত্র ভরসা।

কিন্তু আজ যখন বাজেট বাস্তবায়নের সময় এসেছে, তখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ন্যূনতম পদক্ষেপও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

সরকারের প্রতি শিক্ষক সমাজের দৃঢ় আহ্বান

১. ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকেই কার্যকর করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারি করতে হবে।

২. সকল শিক্ষকের জন্য সরকারি বিধিসম্মত, বৈষম্যহীন ভাতা কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।

৩. শিক্ষাখাতকে প্রকৃত অর্থে ‘অগ্রাধিকার খাত’ বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রের উচিত গভীরভাবে উপলব্ধি করা—শিক্ষকদের প্রতি অবহেলা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্বহীনতা। জাতি গঠনের কারিগরদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাস্কর।

শিক্ষকরা আজ কোনো নতুন দাবি নিয়ে রাজপথে নামেননি; তাঁরা কেবল চান পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। তাঁরা একটি মাত্র প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন:
“প্রজ্ঞাপন কবে?”
এই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রকে দিতেই হবে—শুধু অর্থনৈতিক দায় মেটানোর জন্য নয়, নৈতিক দায় শোধ করতেও।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme