শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে চলে যাবে। এ বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে নীতিমালাটিতে আরও কিছু সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব সংশোধন চূড়ান্ত করার পর পরিপত্র জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যক্ষ নিয়োগের খসড়া নীতিমালা তৈরি হলেও এনটিআরসিএ কিছু অতিরিক্ত বিষয় সংযোজনের অনুরোধ জানিয়েছে। এ কারণে সংশোধনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সূত্র আরও জানিয়েছে, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং অনুমোদন প্রাপ্তির পর নিয়োগসংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হবে। এজন্য আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন, তবে পরিপত্র জারি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ প্রদান করে আসছে। তবে প্রথম দশ বছর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার এনটিআরসিএকে শুধু নিবন্ধন সনদ নয়, শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতাও প্রদান করে। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা তখনও ম্যানেজিং কমিটির হাতেই ছিল। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে এ ক্ষমতা বাতিল হয়ে যাবে এবং এনটিআরসিএই যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেবে।
দেশে বর্তমানে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এর মধ্যে ২৯ হাজার ১৬৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত। এসব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে এত বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply