শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তিনটি অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাব এবার একসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নতুন করে একটি সমন্বিত ফাইল তুলবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফাইলটি বিভিন্ন ধাপের অনুমোদন শেষে প্রস্তাব আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পূর্বে শুধুমাত্র স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাবের জন্য ফাইল তোলা হয়েছিল। কিন্তু সেটি এখন বাতিল করা হচ্ছে। কারণ, বিষয়টি এখন আর এককভাবে না করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাব একীভূত করে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ফাইল তুলেছিলাম, তবে সেটি বাতিল করতে হচ্ছে। কারণ গত সোমবার কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগও নতুন করে ফাইল পাঠিয়েছে। এখন সবগুলোকে একত্রিত করে নতুন ফাইল তুলতে হবে। এই ফাইল ধাপে ধাপে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সর্বশেষ উপদেষ্টার অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”
কত শতাংশ বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাব পাঠানো হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “এটি আমাদের এখতিয়ারে নেই। অধিদপ্তরগুলো যেভাবে ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ প্রস্তাব পাঠিয়েছে, আমরা সেই অনুযায়ী ফাইল তুলব। পরে সচিব এবং উপদেষ্টা বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন।”
এরই মধ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলনে নামবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া প্রদানের প্রস্তাব পেশ করা হয়। সেই প্রস্তাবের আলোকে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট। মন্ত্রণালয়ও এ প্রস্তাব আমলে নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে বিস্তারিত তথ্য বিবরণী চেয়েছে। ইতোমধ্যে এসব তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রস্তাব আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবগুলো পৃথক আকারে নয়, বরং সমন্বিতভাবে পাঠানো হবে বলেও জানা গেছে।
Leave a Reply