বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এনায়েত করিম চৌধুরীর গ্রেপ্তার। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, যিনি বিশেষ এক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে চুক্তিভিত্তিক এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, তার লক্ষ্য ছিল বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করে নতুন জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা। ইতোমধ্যে তিনি উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা এবং ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।
শনিবার মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়া এলাকায় সন্দেহজনকভাবে গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার কাছ থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়, যা প্রাথমিক বিশ্লেষণে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আক্তার মোর্শেদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে দিয়েছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন দাবি করেন, এনায়েত করিম নিজেকে সিআইএ-এর এজেন্ট পরিচয় দিলেও তিনি আসলে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র”-এর হয়ে কাজ করছেন। তার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করা এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরানো। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশকে নিজেদের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার কৌশল নিয়েছে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারহান মো. আরাফ এসব অভিযোগ নাকচ করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, প্রথমে এনায়েত করিমকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, পরে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পেয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকেন, তবে বিমানবন্দরে নামার পরই কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো না? এছাড়া সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে সরকারের লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগও অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।
এনায়েত করিম চৌধুরীর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। তার স্বীকারোক্তি ও পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আগামী ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বহাল করলে সেনাবাহিনী সমর্থিত জাতীয় সরকার বা নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হতে পারে। সেই সরকারে কারা নেতৃত্ব দেবেন, তা নাকি একটি প্রভাবশালী দেশ নির্ধারণ করবে। ফলে এ মামলা বাংলাদেশের রাজনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
Leave a Reply