বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ভাতার প্রস্তাব নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুইটি সূত্র জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে প্রস্তাব যাবে—শতাংশ হারে নাকি নির্দিষ্ট টাকার অঙ্কে—সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ এই প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রে শামিল দেশের বিভিন্ন প্রথম সারির নিউজ পোটার্ল। একটি নিউজ পোটাল তো সরাসরি বলেই দিল শতাংশ হারে প্রস্তাব পাঠালে নাকি তা শতভাগ নিশ্চিত তা রিজেক্ট করে দিবে অর্থ মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট সম্প্রতি শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। এর পর মাউশি থেকে কত টাকা লাগবে সেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবের কাঠামো নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মাউশির হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দিতে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। মাসিক হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয় এত বিপুল অর্থ ছাড় করবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বিকল্প হিসেবে ৫, ১০, ১৫ এবং ২০ শতাংশ—এই চার ধরণের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
এখানে যে কর্মকর্তা এই ধরনের প্রশ্ন করেছেন তার নীতি নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন করে যদি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা যায় অন্যরা যখন বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হলেন তাদের বেলায় কি এধরনের প্রশ্নের অবতারণা আপনারা করেছিলেন করেনিতো। তাহলে কেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে কেন এধরনের দ্বিমুখী আচরণ। কেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায় আপনাদের এই অসুস্থ বক্তব্য।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ইতোমধ্যে মাউশি একটি ড্রাফট পাঠিয়েছে। সেখানে ব্যয়ের সম্ভাব্য হিসাব দেওয়া আছে। এখন এই খরচের যৌক্তিকতা যাচাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে পরবর্তী সময়ে পরিপত্র জারি করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে মহাসমাবেশ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। সেদিন শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানায় মন্ত্রণালয়। এরপর ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাউশি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়। এর মধ্যে মাউশি তথ্য দিয়েছে, এখন বাকি দুটি অধিদপ্তরের হিসাব পাওয়া বাকি। যা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
শেষ কথা, শিক্ষকদের দাবি ও সরকারের বাস্তবায়ন সক্ষমতার মধ্যে এখনো এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে। যেমন একশ্রেণীর সচিব আমলা ও মিডিয়াকর্মীরা নিয়মিত বিভিন্নভাবে সরকারকে নিরুৎসাহিত করেই চলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপরই নির্ভর করছে এই দাবির বাস্তবায়ন।
Leave a Reply