বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রদান করা হতে পারে বলে জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যথাসময়ে প্রয়োজনীয় বেতন বিল অনুমোদন করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা আগস্ট মাসের প্রাপ্য বেতন-ভাতা তাদের একাউন্টে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার) মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, আগস্ট মাসের বেতনের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন (জি.ও) নিতে ফাইল ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বিলম্ব না ঘটলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আগস্ট-২০২৫ মাসের এমপিওভুক্ত অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যাবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) মাউশির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আগস্ট মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, যার মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ২ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৮৬ হাজার ৪৬০ জন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত।
মাউশি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনে বেতন বিল দাখিল করার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আগস্ট মাসের বেতনের জন্য প্রস্তাবিত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেপ্টেম্বরের শুরুতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে প্রেরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সময়মতো প্রদানের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই অনলাইন বিল দাখিল এবং ডিজিটাল অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করেছে। এর ফলে এখন বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া পূর্বের তুলনায় অনেক দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, যা শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।
এর পূর্বে ইএফটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ যেভাবে ইএফটির আওতাভুক্ত হয়ে বেতন পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখনও ইএফটি বলতে যে ধরনের সুবিধা বোঝায় তা কিন্তু মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদ্বিচ্ছার অভাবে তা এখনও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে সোনার হরিণের ন্যায়।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখানেও রয়েছে হতাশার বিষয় কেননা মাউশি থেকে পরিস্কার ভাবে জানানো হয়েছে যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এক নয়। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটির জন্য প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না কারণ তাদের বেতন হয় সরাসরি রাজস্ব খাত হতে। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন হয় অধিদপ্তরের মাধ্যমে এবং বাজেটের বরাদ্দ থেকে বিধায় প্রতিমাসে অনুমোদনের প্রয়োজন হয় যার কারণে কিছুটা অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়।
Leave a Reply