সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের পে কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বৈঠকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পে কমিশনের প্রতিবেদনের মান ও কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনার ওপর। তাই প্রতিবেদনে শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা, বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেদনটি যেন কেবলমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নয়, বরং সার্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার দিক থেকেও কার্যকর হয়, সেই বিষয়টি পে কমিশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
এই বৈঠকে পে কমিশনের সভাপতি, সাবেক অর্থসচিব এবং বর্তমানে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলে কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, যিনি কমিশনের কাজকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। বৈঠকে কমিশনের সদস্যরা অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন করেন এবং কমিশনের সম্ভাব্য কাজের ধারা ও কাঠামো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো ও ভাতাসমূহ পুনর্মূল্যায়নের লক্ষ্যে ২২ সদস্যবিশিষ্ট এই পে কমিশন গঠন করা হয়। সরকার কমিশনকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে, যা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। এই সময়সীমা মাথায় রেখে কমিশনকে স্বল্প সময়ে বিস্তৃত পরিসরের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সুপারিশ প্রণয়নের মতো একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পে কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান জানান, সোমবারের এই সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক ছিল এবং বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য এটি ছিল না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে এবং কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, কমিশনের সদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন, যাতে প্রতিবেদনটি হয় বাস্তবসম্মত, তথ্যভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কল্যাণকর। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশনের সুপারিশসমূহ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
Leave a Reply