এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীর জুলাই মাসের বেতনের হিসাব ইএমআইএসসেল থেকে মাউশির হিসাব শাখায় গত সপ্তাহেই পাঠানো হয় পরবর্তীতে মাউশি সেই প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় গত সপ্তাহের শেষ দিন তথা বৃহস্পতিবার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখায় পাঠানো এই প্রস্তাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্ধারিত বেতন প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক হিসাব ও তথ্য-উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ যেহেতু এ মাসে সরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের ন্যায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির আওতায় বেতন বৃদ্ধি হবে তাই নতুন ভাবে আর্থিক হিসাব ও তথ্য উপাত্ত অন্তুর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বা এই নতুন বৃদ্ধি প্রাপ্ত অর্থ অনুমোদনের বিষয়ে কিছু সাবধানতার বিষয় জরুরি এই জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই হিসাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চেয়ে পাঠাতে একটু দেরি হয়। তবে আশার খবর এ-ই যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অনুমোদন শেষে বেতনের প্রস্তাব এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌছেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের প্রোগ্রামার-৫ মো. জহির উদ্দিন। তিনি বলেন, জুলাই মাসের বেতন দ্রুত দিতে আমরা চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে মাউশির প্রশাসন শাখা থেকে বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে, জুলাই মাসে মোট ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯০৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে রয়েছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৫১৮ জন এবং কলেজ পর্যায়ে রয়েছেন ৮৭ হাজার ৩৮৯ জন। মাউশির পাঠানো প্রস্তাবটি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করে তারপর তা এ সপ্তাহের মধ্যে অথবা আগামী সপ্তাহ নাগাদ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে তার সেখান হতে তা প্রধান হিসাব নিরীক্ষকের অফিস হয়ে আইবাস++ এর মাধ্যমে শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট পৌছাবে। এখন এই প্রক্রিয়াগুলো যদি সবগুলো শেষ করে যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারবেন অর্থাৎ আগামী সপ্তাহের মধ্যে। তবে এটা ঠিক এ মাসের বেতন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের আগামী মাসের মত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। আশা করা যায় আগামী ১-৪ তারিখের মধ্যে খুব বেশি দেরি হলে আগামী ৭ তারিখের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের জুুলাই মাসের বেতন তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরের মধ্য দিয়ে বুঝে পাবেন আশা করা যায়।
আজ মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, সব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে এবং অনুমোদনের পর দ্রুতই ইএফটিতে (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) বেতন প্রেরণ করা সম্ভব হবে। এতে করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই আগস্ট মাসের শুরুতেই তাদের জুলাই মাসের বেতন পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা জুন মাসের বেতন পেয়েছেন ১৫ জুলাইয়ের পর। এ অবস্থায় জুলাইয়ের বেতন কবে পাবেন সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। তবে আজ জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে বিধায় আর নতুন কোন জটিলতা যদি মাউশি তৈরি না করে তাহলে আগষ্টের শুরুতেই জুলাইয়ের বেতন পাওয়া যাবে।
এর পূর্বে ইএফটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ যেভাবে ইএফটির আওতাভুক্ত হয়ে বেতন পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখনও ইএফটি বলতে যে ধরনের সুবিধা বোঝায় তা কিন্তু মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদ্বিচ্ছার অভাবে তা এখনও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে সোনার হরিণের ন্যায়।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখানেও রয়েছে হতাশার বিষয় কেননা মাউশি থেকে পরিস্কার ভাবে জানানো হয়েছে যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এক নয়। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটির জন্য প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয় না। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য বাস্তবায়িত ইএফটিতে প্রতিমাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয় বিধায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। আর একারণেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ ইএফটির পরিপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখন ভবিষ্যতে এই সমস্যা কতটুকু দুর করতে পারবে মাউশি তা দেখার বিষয়। তবে মাউশি যাই বলুক না কেন মাউশি যদি ইচ্ছা করে তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন মাসের শুরুতেই অর্থ্যাৎ ১-৪ তারিখের মধ্যে দেওয়া সম্ভব কেননা অতীতে মাউশি তা করে দেখিয়েছে।
Leave a Reply