এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উদ্যোগে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে, যার উপযোগিতা যাচাই কার্যক্রম বর্তমানে চলছে। এই সফটওয়্যারের কার্যকারিতা পর্যালোচনার লক্ষ্যে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কিছু প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল জুম সভার আয়োজন করেছেন। সফটওয়্যারের কার্যকারিতা এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি বদলি সফটওয়্যারের পাইলটিং শুরু হয়েছে বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন মাউশির কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম মোসলেম উদ্দিন গণমাধ্যমে জানান, সফটওয়্যারটি প্রস্তুত রয়েছে এবং এর উপযোগিতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, সফটওয়্যারটি সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে এটি বর্তমানে শুধু তথ্য ইনপুটের পর্যায়ে রয়েছে এবং একে বদলি কার্যক্রম বলা যাবে না। সফটওয়্যার চালুর পর প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাঁদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শূন্যপদের তথ্য ইনপুট করবেন। এর মাধ্যমে পরবর্তীতে বদলির আবেদন গ্রহণের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করছেন। এ লক্ষ্যে আজ একটি জুম সভা আহ্বান করা হয়েছে, যাতে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রধান অংশ নিচ্ছেন। এটি মূলত সফটওয়্যারের প্রস্তুতি ও যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ, বদলির পাইলটিং নয়।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, এই সফটওয়্যার চালুর পূর্বশর্ত হিসেবে প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর পদবিন্যাস অনুযায়ী তথ্য একটি বিশাল ডেটাবেইজে ইনপুট করা হয়েছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই তথ্যসমূহ ভিত্তি করেই বদলির আবেদন গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য দুটি ধাপে সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হচ্ছে—প্রথমে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদের তথ্য সাজানো হয়েছে, এরপর তা চূড়ান্ত সফটওয়্যারে ইনপুট করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, বদলির প্রক্রিয়া একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং শুধুমাত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পারস্পরিক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
নীতিমালায় বদলির সাধারণ শর্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করবে। এর ভিত্তিতে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকরা অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন, যাদের আবেদন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে এবং ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। আবেদনকারী শিক্ষক নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য যেকোনো জেলায় শূন্যপদের বিপরীতে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বদলির পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারভিত্তিক হবে। মাউশি সফটওয়্যার প্রস্তুত ও অনলাইন আবেদনের ফরমেট নির্ধারণ করবে। বদলির পর শিক্ষককের ইনডেক্স অনলাইনের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হবে। পারস্পারিক বদলির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বদলির পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা পূর্বের মতোই বজায় থাকবে।
Leave a Reply