জুলাই মাসে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধে অতিরিক্ত ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। বেতন বৃদ্ধির কারণে এই অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে জুলাই মাসের বেতনের সারসংক্ষেপ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রশাসন শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বিগত জুন মাসে দেশের প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের খরচ হয়েছিল ৮৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি জুলাই মাসে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯ কোটি টাকায়। ফলে, জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে অতিরিক্ত ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বকেয়া পরিশোধে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করে মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের প্রোগ্রামার-৫ মো. জহির উদ্দিন জানান, ‘জুলাই-২০২৫ এর প্রথম লটে মোট ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য প্রায় এক হাজার ২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। যেখানে জুন-২০২৫ সালের প্রথম লটে এই পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলতি জুলাই মাসে সকল শিক্ষক-কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট প্রদান, প্রণোদনার অঙ্ক বৃদ্ধি এবং অনলাইনে অনুমোদিত বকেয়ার অর্থ ছাড়ের কারণে বেতনের ব্যয় বাড়ছে। নতুন পে-স্কেল ও গ্রেডের তারতম্যের ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তি পর্যায়ে বেতনও বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থপ্রবাহে প্রভাব ফেলছে।’
জুলাই মাসের বেতন কবে দেওয়া হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে মো. জহির উদ্দিন জানান, ‘স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের সংক্ষিপ্ত হিসাব মাউশির সাধারণ প্রশাসন শাখায় ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সময়মতো প্রস্তাব অনুমোদন পেলে আশা করা যাচ্ছে যে, আগস্ট মাসের ৪ তারিখেই শিক্ষক-কর্মচারীরা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে তাদের বেতনের অর্থ পাবেন।’
এর পূর্বে ইএফটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ যেভাবে ইএফটির আওতাভুক্ত হয়ে বেতন পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখনও ইএফটি বলতে যে ধরনের সুবিধা বোঝায় তা কিন্তু মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদ্বিচ্ছার অভাবে তা এখনও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে সোনার হরিণের ন্যায়।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখানেও রয়েছে হতাশার বিষয় কেননা মাউশি থেকে পরিস্কার ভাবে জানানো হয়েছে যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এক নয়। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটির জন্য প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয় না। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য বাস্তবায়িত ইএফটিতে প্রতিমাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয় বিধায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। আর একারণেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ ইএফটির পরিপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখন ভবিষ্যতে এই সমস্যা কতটুকু দুর করতে পারবে মাউশি তা দেখা
Leave a Reply