জুন মাসের বেতনের জিও জারি: স্বস্তিতে প্রায় চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে জুন মাসের বেতন-ভাতার সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়েছে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য। এবার মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২৪১ জন শিক্ষক-কর্মচারী এই সুবিধার আওতায় আসছেন। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে রয়েছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৮০৫ জন এবং কলেজ পর্যায়ে রয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৩৬ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক প্রস্তুত করা প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদনের পর মন্ত্রণালয় থেকে জিও জারি করা হয়, যা শিক্ষক মহলে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত কিছু মাস ধরেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়া ঘিরে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল। সময়মতো জিও না আসা, বিলম্বে বেতন ছাড়, এবং ইএফটি (EFT) জটিলতার কারণে শিক্ষকদের আর্থিক দৈন্য আরও বাড়িয়ে তুলছিল। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি যৌথভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বেতন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাউশির পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল পূর্বেই আশ্বস্ত করেছিলেন যে, জুন মাসের বেতন সময়ে বিতরণে কোনো বাধা থাকবে না। কিন্তু তার সেই বক্তব্য বাস্তব প্রমাণ খুব একটা পাওয়া যায়নি। বেতন প্রদানের এই কার্যক্রম অযথা কোন এক অজানা কারণে দেরি হওয়ার জন্য। যাক শেষ পর্যন্ত স্বস্তি পেয়েছে শিক্ষক ও কর্মচারীগণ জিও জারির মাধ্যমে।
অন্যদিকে, শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, সময়মতো বেতন পাওয়া মানে শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, বরং এক ধরনের মানসিক প্রশান্তিও বটে। তবে তাদের দাবি, মাসের শুরুতেই যেন জিও জারি হয় এবং ইএফটি পদ্ধতিতে যেন কোনো ধরণের ব্যত্যয় না ঘটে। তারা আরও অভিযোগ করেন, এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন-বোনাস সময়মতো পৌঁছায় না, বিশেষ করে জাতীয় দিবস ও ঈদ উপলক্ষে প্রদেয় বোনাসগুলো নিয়ে প্রায়শই জটিলতা দেখা দেয়।
সার্বিকভাবে জুন মাসের বেতন প্রক্রিয়া সময়মতো না হলেও যে এখন প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় দিকে যাচ্ছে এই কারণে শিক্ষক মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন আরও দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নিরবচ্ছিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবস্থাপনা। এমপিও নীতিমালায় সংস্কার, সফটওয়্যারের দুর্বলতা নিরসন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস—এই তিনটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া না হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হবে না।
এর আগে মে মাসের বেতন ও বৈশাখী ভাতা শিক্ষক-কর্মচারীরা পেয়েছেন। ঈদুল আজহার পূর্বে ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতাও প্রদান করা হয়েছে। মে মাসে আরও কয়েকটি ধাপে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে:
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই ইএমআইএস সেলের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা এবং উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতির কারণে শিক্ষকরা এখনো নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। যে সমস্যা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা এখন পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মকচারীদের বেতন প্রদানের এই সমস্যা যতটা কারিগরি তার চেয়ে বেশি মাউশি তথা বেতন প্রদানের সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাফিলতি। মাউশি যে ইচ্ছা করলেই মাসের শুরুতেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান করতে পারে তা গত মে মাসের বেতন প্রদানেই বোঝা গিয়েছে। বেতন প্রদানে এই যে, অনাকাঙ্খিত সময় ব্যয় এটি মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইচ্ছাকৃত গাফিল
Leave a Reply