এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদানের বৈষম্য দুরীকরণের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছিল ইএফটি। আর সেই বার্তার খবর পেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ আনন্দে আত্নহারা হয়ে গিয়েছিল। তারা ভেবেছিল যে, এই বুঝ আমাদের বেতন প্রদানের জটিলতা নিরসন হল। তারা ভেবেছিল যে, ইএফটি বাস্তবায়ন হলে বুঝি তারা তাদের প্রতি মাসের বেতন মাসের শুরুতে পাবে। তারা ভেবেছিল এখন থেকে তারা প্রতি মাসের বেতন একটি নিদিষ্ট সময়ে পাবে। তারা আশা করেছিল ইএফটি বাস্তবায়নের পর বুঝি আর কমিটি নামক দানবদের বেতনের উপর চোখ রাঙ্গানি চাহনি থাকবে না। এরপর থেকে বুঝি ম্যানেজিং কমিটির অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত সভাপতির হস্তক্ষেপের অবসান হবে।
কিন্তু বিধিবাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাল কিছু কারও কাছে ভাল ঠেকে না। তা না হলে এদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ইএফটি বাস্তবায়নের সময় তেমন কোন বড় ধরনের জটিলতা যেখানে হয় না। সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি বাস্তবায়নের সময় মাউশি যে জটিলতার সৃষ্টি করল তা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জীবনে এক করুন উদাহারণ হয়ে থাকবে আজীবন। ইএফটির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান শুরু হয়েছে গত জানুয়ারী মাস হতে। গত জানুয়ারী মাসে ডিসেম্বর ২০২৪ মাসের বেতন প্রদান করে মাউশি। কিন্তু ইএফটির মাধ্যমে বেতন প্রদান শুরু করার পর শুরু হয় শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে হাহাকার। ১দিন, ২দিন, ৩দিন যায় বেতন আর শিক্ষক কর্মচারীদোর একাউন্টে আসে না। পরে মাউশি থেকে জানা যায় যে, প্রথম ধাপে ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে বেতন প্রদান করা হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৮৯ হাজার। আর বাকি শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্যে নানা প্রকারের সমস্যা রয়েছে। ভুল সংশোধন সাপেক্ষে অতি দ্রুততর সমযের মধ্যে বাকি শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটির আওতায় আনা হবে। কিন্তু ১ সপ্তাহ যায় ২ সপ্তাহ যায় বেতন আর আসে না। যাক সেই বর্ণনায় আর না যাই সেই হয়রানির কথা আর বলার কিছু নাই সেই যন্ত্রনায় যে পড়েছে সেই ভাল জানে।
আরও পড়ুন…….ইএফটির ৭ম ধাপের বেতনের বিষয়ে যা বিষয় জানাল মাউশি।
এখন আজ যে বিষয় নিয়ে লেখার জন্য বসেছি তা হল যে, সকল শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য ভুলের বা সমস্যার কারণে বেতন বন্ধ হয়েছিল তাদের তথ্য সংশোধন সাপেক্ষে ৭ম ধাপে সেই সকল শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান করবে এ মাসেই। তবে সকলের নয় যে সকল শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের তথ্য সংশোধন করে ইএফটি মডিউলে আপডেট দিয়েছেন তারাই ইএফটির ৭ম ধাপে ডিসেম্বর এর বেতন পাবেন। আরা যারা এ ধাপেও বেতন পাবেন না তাদের টেনশনের কিছু নাই তারা তথ্য সংশোধন করে ইএফটি মডিউলে আপডেট দিলেই তাদের বেতন চালু হয়ে যাবে।
তথ্য সংশোধনের আরও যে বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো যে, সকল শিক্ষক কর্মচারীর তথ্যের নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে কিন্তু বেতন চালু রয়েছে তারাও পূর্বের প্রদানকৃত নির্দেশনা মোতাবেক তথ্য সংশোধন করে জমা দিলে তাদের কোন সমস্যা থাকবে না। আর যারা এখনও তথ্য সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেননি তাদের বেতন কিন্তু ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তবে আশঙ্কার কিছু নাই তথ্য সংশোধন করে জমা দিলেই আবার বেতন চালু হয়ে যাবে।
তথ্য সংশোধনের ব্যাপারে মাউশি যে ছাড় দিয়েছে তা হলো শুধু মাত্র যাদের ডট, কমা, দাড়ি, স্পেস ও হাইফেন জাতীয় সমস্যা রয়েছে তাদের আপাতত সংশোধনের প্রয়োজন নাই।
বাকি তথ্যের সমস্যা যাদের রয়েছে তারা যারােএখনও তথ্য সংশোধন করতে পারেনি বা সংশোধন করতে গিয়ে নানা মুখী জটিলতা পড়েছেন তারা অতি সত্তর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও হয়েছে যে, এমপিও সংশোধনের জন্য ফাইল ফরোওয়ার্ড করছেন কিন্তু ফাইল যে কোন সমস্যার কারণে রিজেক্ট হয়ে গেছে তার পুনরায় যত দ্রুত সম্ভব ফাইল ফরোওয়ার্ড করার ব্যবস্থা করুন।
সংশোধন নিয়ে বেশি বিচলিত হওয়ার যেমন কারণ নেই কারণ তথ্য সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আবার ঢিলেমি করে বসে থাকারও সুযোগ নাই কারণ একবার সংশোধন হয়ে গেলে কিন্তু সারাজীবনের জন্য আপনার আর কোন সমস্যা থাকবে না। তাই যে যত দ্রুত সময়ের মধ্যে পারেন তথ্য সংশোধন করুন।
কোন তথ্যের সমস্যা কিভাবে সংশোধন করবেন নিচের লিংকে ঢুকলেই বুঝতে পারবেন।
####সকল শিক্ষকের সংশোধন লাগবে না। কোন ধরনের ভুলের জন্য সংশোধন লাগবে জেনে নেই।










Leave a Reply