অভাগা যেদিকে চায়, সাগরও শুকিয়ে যায়
সংগৃহীত কবিতা
বৈশ্বিক এই উষ্ণ তাতে সাগরের জল বাড়ে,
কই গেলি সব অভাগার দল আয়রে সাগর পাড়ে।
বাড়ছে পানি সাগর বুকে ডুববে বুঝি দেশ,
উঞ্চতারই ছোঁয়া পেয়ে গলছে বরফ বেশ।
ডুববে বাড়ি,ডুববে জমি,ডুববে মানুষজন,
সাগর পাড়ে আয়রে ছুটে সব অভাগা মন।
অভাগারা যেদিকে চায় সাগর শুকাই যায়,
আদর করে ডাকছি তোদের সাগর পাড়ে আয়।
দৃষ্টি মোদের পেলে যদি সমুদ্র জল কমে,
আমরা হবো মহতি জন থাকবোরে সম্ভ্রমে।
আমি আছি সবার সাথে দল বেঁধে সব আয়,
সব অভাগার মিলন হবে বালুকার বেলায়।
উপরের কবিতা দেখে ভাবার কোন কারণ নেই যে, কবিতা টুকু আমার লেখা বা আমি আমার লেখা বলে চালিয়ে দিতেছি। কবিতাটা আমাদের সাথে মিলে যায় তাই এখানে আপনাদের সবার জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করলাম এতটুকুই।
এখন আসা যাক ক্যাপশনে উল্লেখিত বিষয় নিয়ে। এই ধরনের বিষয় নিয়ে আমি অনেক দিন থেকে লিখছি এবং ভবিষ্যতেও লিখব। যতদিন বৈষম্য দুর না হয় ততদিন লিখব। আমি জানিনা আমার এই লেখা আমাদের বৈষম্য দুরীকরণে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা। কারণ আমি এটা ভাল ভাবে জানি যে, আমি এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি না যে, আমার লেখায় বা কথায় এদেশের হাজার হাজার লোক বা সরকার প্রভাবিত হয়ে একদিনের মধ্যে আমাদের সকল বৈষম্য দূরীভুত করে দিবে। তবে হ্যাঁ একজন বা দশজন ও যদি কোন ভাবে প্রভাবিত হয়ে তার নিজ নিজ অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয় তাহলে ভাবব আমার এই ভাবনা বা লেখা সার্থক।
কবিতা যে ক্যাপশনে আছে সেখানে বলা হয়েছে যে, নিগৃহীত ব্যাক্তি বা অভাগা ব্যাক্তির কথা তার সকল দুংখ কষ্টের কথা। দেখেন আমরা দীর্ঘদিন আবদ্ধ ছিলাম ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থার অন্তরালে সেখানে আমাদের ছিলনা চাওয়া পাওয়ার দাম, ছিলনা আমাদের অধিকার। এখন আবার ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার পরও যখন আমরা ভাবলাম এবার বুঝি আমাদের ভাগ্য ফিরবে কিন্তু এখন আবার দেখা যাচ্ছে অন্য ধরনের নানাবিধ সমস্যা। আগে আমরা কথা বলতে পারতাম না কিন্তু এখন কথা বলার অধিকার ফিরে পেলাম ঠিকই তবে হারিয়ে ফেললাম কথা বলার শক্তি। ভুলে গেছি কথা বলতেই। যেমন কোন পাখি যদি দীর্ঘদিন খাঁচায় বন্দি থাকলে সে কিন্তু ডানা মেলে উড়তে ভুলে যায়। আমাদের অবস্থা অনেকটা তাই।
এখন আমরা কথা বলার জন্য মুক্ত, এখন আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত পেয়েও অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলার শক্তি বা সাহস পাচ্ছি না। যার কারণ হয়তবা দীর্ঘদিন কথা বলতে না পাড়ার অনভিজ্ঞতা। কারণ যে ধরনের মঞ্চ আমাদের জন্য প্রস্তুত ছিল আমারা সবাই না গিয়ে যদি কিছু সংখ্যক যদি হাজির হতাম তাহলেই আমাদের দীর্ঘদিনের চাওয়া পাওয়া পূরণ হয়ে যেত নিশ্চিত।
একটা কথা মনে রাখবেন যে, এটা আমার কথা না “যে জাতি নিজের ভাগ্য, নিজে পরিবর্তন না করে তার ভাগ্য সৃষ্টিকর্তাও পরিবর্তন করে না।” আর আমাদেরকে তো এদেশের সরকার মানুষ বলে মনেই করে না। আমাদের তো এদেশের সরকার এদেশের কোন পেশাজীবি বলে ভাবেই না। আমাদের পেশার কোন মুল্য এদেশের সরকার বা এদেশের আমালাদের কাছে নেই। যার কারণে দিন আমাদের পেশার দিন সমস্যা বাড়তে বাড়তে পেশার রূপই পরিবর্তন হয়ে গেছে। বর্তামানে এ পেশার নতুন নাম হয়েছে Multiples Problem Occupation বা MPO ভুক্ত শিক্ষক সমাজ। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ রাষ্ট্র সর্বদা একটা নীতি মেনে চলে তা হল এই শিক্ষকদের প্রয়োজন যতটুকুই থাক না কেন মেটানো হবে যৎসামান্য।
আমাদের প্রয়োজন যতটুকু থাক না কেন তাতে এদেশের সরকার বা আমলাদের কোন যায় আসে না। সরকারের কাজ বিভিন্ন ভাবে টালবাহানা করা ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর আমলাদের কাজ হলো আমাদের বিভিন্ন চাওয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে নানামুখী প্রতবন্ধকতা তৈরি করা। সবকিছু মিলিয়ে যা দাঁড়ায় তা হলো কবিতা ক্যাপশনে মতোই অনেকটা।
বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার নিজেই থেকে বলেছিল যে, আমরা আপনাদের Multiples Problem যতটা কমিয়ে নিয়ে আসা যায় তার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা করব এবং সেই লক্ষ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ শুরু করব। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে পুরোনো সমস্যা তো দুর তো হচ্ছেই না উল্টো নতুন করে সমস্যা যুক্ত হতে চলেছে।
বিগত ফেব্রুয়ারী মাসের আন্দোলনের ফলে সরকার একটু মানবিকতা প্রর্দশন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাড়ানোর ও একটি নতুন ভাতা যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। তাতে করে আমাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হতে চলেছিল যে, আমাদের বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের অবসান হতে চলেছে, কিন্তু পরবর্তী কালে যা জানা যাচ্ছে তা হল সামনে যে ঘোষণা আসতে চলেছে তা একটি নতুন প্রহসন বা পুরাতন নাটকের নতুন মঞ্চায়ন ছাড়া আর কিছুই নয়। পুরাতন নাটকের নতুন মঞ্চায়ন এই জন্য বলছি যে, দীর্ঘদিনের আমাদের এই বেষম্যের যদি এই সমাধান হয় তাহলে এটাকে পুরাতন নাটকের নতুন মঞ্চায়ন ছাড়া আর কি বা বলা যায় বলেন।
বিভিন্ন সুত্র মোতাবেক যতটুকু জানা যাচ্ছে তা হলো যে, আমাদের উৎসব বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ ২৫% বা তার কমও হতে পারে। বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আর। চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি পাবে সম্ভবত ৫০০টাকা। আর নুতন যুক্ত শান্তি বিনোদন ভাতা আমাদের জন্য বরাদ্দ প্রতি তিন বছর পর পর ১০%। যেখানে সরকারি একজন চাকুরীজীবি উৎসব ভাতা পায় ১০০%, বাড়িভাড়া পায় ৪৫%, চিকিৎসা ভাতা পায় ১৫০০টাকা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রতিটি সরকারী চাকুরীজীবি পায় প্রতি তিন বছর পর পর তার মুল বেসিকের সমপরিমাণ টাকা।
আগের সরকার গুলো আমাদের প্রতিক্ষেত্রেই বৈষম্য তৈরি করে গেছেন তাদের আমরা তো ভাল বলছি না কিন্তু বর্তমান সরকার তো বৈষম্য নিরসনের পালাগান মুখে নিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে আসীন হয়েছেন তাদের নিকট থেকে এধরনের প্রহসন কি মানায় বলেন। আসলে এটাই কি আমাদের নিয়তি যে, ক্ষমতায় যেই আসুক প্রহসন আমাদের সাথে হবেই এটাই নির্ধারিত। এর কোন ব্যাতিক্রম হবে না। ব্যাতিক্রম হওয়া আসলে উচিতও নয় মনে হয়। কারণ আমরা নিজেরাই তো সচেতন নয়।
Leave a Reply