এদেশে এপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে যেভাবে বৈষম্যমুলক আচরণ করা হয়, অন্যকোন পেশার কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে এধরনের আচরণ আপনি খুঁজে পাবেন নিশ্চিত। বর্তমান সরকারের বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন কিন্তু তার সঠিক বাস্তবায়ন এখনও কিছুই দেখা যায়নি। হয়তবা যাবেও না। তিনি বিদায় নেওয়ার সময় বলেছিলেন যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার আমরা সেই বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে যাতে করে সকল বৈষম্যগুলো দুর হয় সেই লক্ষ্যে আমি কাজ শুরু করে দিয়ে গেলাম পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন হবে।
বিদায়ী উপদেষ্টা কথায় যে, এত পরিমাণ চাতুরতা ছিল তা কিন্তু কেউ তখন কোন প্রকারেই কিছু বুঝতে পারে নি। বরং আমরা সবাই তার প্রশসংসায় পঞ্চমুখ ছিলাম। এই ভেবে যে, আমাদের সকল বৈষম্য এই বুঝি দুর হওয়া শুরু হলো।
কিন্তু তিনি যে, আমাদের সাথে এ ধরনের চাতুরতা শুরু করে গেলেন সেটা বুঝতে বেশিদিন সময় লাগে নি। বিদায়ী উপদেষ্টার যে ঘোষণা দিয়েছেলেন তার মধ্যে অন্যতম একটি ছিল তা হল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্যান্য ভাতার সাথে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুরূপ শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর চালু করবেন। আমি অন্যান ভাতা বা সুযোগ সুবিধার কথা আজ বা এখানে আলোচনা করব না। তো যা নিয়ে আলোচনায় ছিলাম সেখানে আসি। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতি তিন বছর পর পর শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা হিসাবে একটি বেসিকের অনুরূপ ভাতা পেয়ে থাকেন। আমরাও ভেবেছিলাম তাহলে আমরাও হয়তবা সেটা পাইব। কিন্তু এখন দেখছি বা শুনছি যে, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা আমাদের জন্য চালূ হবে তা শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা হিসেবে নয় শাস্তি বৈষম্য ভাতা হিসাবে কেন আমি তা বলতেছি তাহলে শুনুন। আমাদের জন্য শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা হিসাবে প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর বেসিকের ১০% বরাদ্দ হবে। তাহলে বলেন আপনি এটাকে কি বলবেন। এই ধরনের চাতুরতা বা বৈষম্যমুলক আচরণ কি তার নিকট বা তার সরকারের নিকট আমরা আশা করেছিলাম।
এমনিতে আমাদের এ পেশাতে বৈষম্যের শেষ নেই। আমাদের অনেক ভাতাতেই রয়েছে নানা ধরনের বৈষম্য তার সাথে নতুন করে আরও একটি নতুন বৈষম্যের খাত তৈরী করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কি দরকার ছিল তিন বছর পর পর ১০% এই ভাতার তার চেয়ে আমরা যে ভাতা গুলো পেতাম সেগুলোর বৈষম্যের দুর করা তো এর চেয়ে অনেক ভাল অপশন হতো।
আর কি বলব, বলার আর কোন ভাষা অবশিষ্ট নেই। পরিশেষে যে কথা বলে আজ শেষ করব আমাদের সমস্যা এভাবে শেষ হবে না। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই আমাদের সমস্যা কোনদিন দূর হবে না। তাই সকলের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলব তা হলো কারও দিকে না তাকিয়ে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোন একাধিক দাবী না জানিয়ে এক দফা এক দাবি নিয়ে হাজির হতে হবে আর তা হলো “জাতীয়করণ” এটা ছাড়া আমাদের বৈষম্য এদেশেরে কোন নেতা, কোন সরকার দুর করবে বলে মনে হয় না। তাই এখনও সময় আছে সবাই এক হয়ে মাঠে নামুন। এটা ছাড়া আমাদের সামনের বিকল্প কোন রাস্তা খোলা নাই।
Leave a Reply