তিন দফা দাবিতে ক্লাসরুম ছেড়ে রাজধানীতে নেমে এসেছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে তারা এখন রাজপথে। এর আগেও একই দাবিতে আন্দোলন করলেও এবার তাদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত রবিবার রাজধানীতে তাদের কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও মারধরের পর থেকে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নতুন কর্মসূচি হিসেবে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন শিক্ষকরা। শহীদ মিনারে দিনরাত অবস্থান নিয়ে দাবি আদায়ের প্রত্যয়ে তারা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজে এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের সব সরকারি কলেজের শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ স্থগিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষকেরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকলেও ক্লাসরুমে যাচ্ছেন না, ছাত্রছাত্রীরা ফিরে যাচ্ছেন হতাশ হয়ে।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে দাবি জানানো হয়েছে—শিক্ষকদের ওপর হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারা আরও বলছেন, শিক্ষকদের প্রতি এমন আচরণ কেবল অমানবিকই নয়, এটি শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সব মিলিয়ে, সরকারি ও বেসরকারি দুই ধারার শিক্ষক আন্দোলনের কারণে সারাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার ঘাটতি ও নীতিনির্ধারকদের অব্যবস্থাপনার ফলেই আজ এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষায়, “শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি শিক্ষক—কিন্তু সেই শক্তিকেই আজ উপেক্ষা করার খেসারত দিচ্ছে পুরো জাতি।”
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষা তথা দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার এই অচল অবস্থা নিরসনে যে খবর বিশেষ মাধ্যমে জানা গিয়েছে তা হলো সরকারের আমলারা এই বিষয়টি নিয়ে এখনও তাদের অবস্থান পূর্বের চেয়ে যে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি তারা এই সমস্যা নিরসনে তেমন সমাধান মুলক প্রস্তাব পেশ বা তার কোন চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না। উল্টো তারা যে সমাধান কল্পে যে প্রস্তাবনা দিবে বা দিয়েছে তা অনেকটা হাস্যকর বা আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মত অবস্থা। তারা যে প্রস্তাব দিয়েছে বা দিবে বলে শোনা যাচ্ছে তা হল বাড়িভাড়া ৫% বা সর্বনিম্ন ২০০০টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ১০০০টাকা ও কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫% তা আবার এটি কার্যকর হবে আগামী জানুয়ারী মাস হতে। আগামী জুলাই হতে এই বাড়িভাড়া ১০% উন্নীত হবে। এই ধরনের হাস্যকর প্রস্তাবের কোন মানে হয়।
পরিশেষে যে কথাটি বলব তা হল আপনারা আশাহত হবেন না। আশাহত হওয়ার মত কিছু হয়নি। সকল প্রতিষ্ঠান যে ভাবে এই আন্দোলনে সক্রিয় হয়েছে আমরা যদি এই ধারা বজায় রাখতে পারি তাহলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। আমরা কেন তদের সথে কম্প্রোমাইজ করতে যাব নো কম্প্রোমাইজ।
Leave a Reply