এবার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে মতামত জানানোর সুযোগ তৈরি করেছে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫। শুধু সরকারি চাকরিজীবীরাই নন, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ভাতা বাড়ানো প্রয়োজন কি না, সে বিষয়েও মতামত জানাতে পারবেন অংশগ্রহণকারীরা। এ লক্ষ্যে কমিশন একটি অনলাইন জরিপ চালু করেছে, যা শুরু হয়েছে গত ২ অক্টোবর থেকে এবং চলবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশের যেকোনো নাগরিক কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে এই জরিপে অংশ নিতে পারবেন।
এই জরিপে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে চার শ্রেণির ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য—সাধারণ নাগরিক, সরকারি চাকরিজীবী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি। জরিপে অংশ নেওয়ার জন্য লিংকটি পাওয়া যাবে জাতীয় বেতন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (paycommission2025.gov.bd)।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রশ্নগুলো ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে। ধাপ ১-এ সরকারি চাকরিজীবীর নাম, অফিস, পদবি, বয়স, মোবাইল নম্বর, লিঙ্গ, প্রতিষ্ঠানের ধরণ, চাকরির মেয়াদ, গ্রেড, অফিসের অবস্থান ও বাসস্থানসহ মৌলিক তথ্য দিতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে বেতন কাঠামো, ভাতা, অতিরিক্ত প্রণোদনা, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়, অবসর-পরবর্তী সুবিধা এবং কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
ধাপ ২: বেতন কাঠামো
এ অংশে মূল বেতন যথেষ্ট কি না, গড় মাসিক ব্যয় কত, খাদ্য, বাসাভাড়া, ইউটিলিটি, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন বাবদ ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের যৌক্তিকতা, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ও ভিত্তি, আন্তঃবেতন বৈষম্য, রেশন সুবিধা এবং পরিবার খরচ মেটাতে ন্যূনতম মূল বেতন কত হওয়া উচিত—এসব বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।
ধাপ ৩: ভাতা সংক্রান্ত
এখানে বাড়িভাড়া ভাতা (বর্তমান ৩৫%-৬৫%), চিকিৎসা ভাতা (বর্তমান ১,৫০০ টাকা), শিক্ষা ভাতা (প্রতি সন্তান ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ ২ সন্তান ১,০০০ টাকা), নববর্ষ ভাতা (মূল বেতনের ২০%), টিফিন ভাতা ও প্রেষণ ভাতা যথাযথ কি না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ধাপ ৪: অতিরিক্ত প্রণোদনা
এ অংশে রেশন সুবিধা থাকা উচিত কি না, কী রূপে হওয়া উচিত এবং মাসিক কত কিলোগ্রাম খাদ্যশস্য ন্যায্য হবে—এসব বিষয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ চাকরিতে বেতন স্কেলে বিশেষ সুবিধা প্রতিফলন, মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট বিল ভাতা সম্পর্কেও মতামত নেওয়া হচ্ছে।
ধাপ ৫: মূল্যস্ফীতি সমন্বয়
এখানে বাজারদর অনুযায়ী বেতন সমন্বয় করা দরকার কি না, কত বছর অন্তর সমন্বয় হওয়া উচিত এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে বেতন কীভাবে সমানুপাতিক রাখা যায়—এসব বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।
ধাপ ৬: অবসর-পরবর্তী সুবিধা
বিদ্যমান পেনশন (সর্বশেষ বেতনের ৯০%) যথেষ্ট কি না, পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতা, ভোক্তা মূল্য সূচক অনুযায়ী পেনশন বৃদ্ধি, আনুতোষিক (গ্রাচুইটি) এর বর্তমান হার—এসব নিয়ে মতামত দিতে হবে।
ধাপ ৭: কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা
এখানে সরকারি কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা নির্ধারণের ভিত্তি, দুর্নীতির সঙ্গে স্বল্প বেতনের সম্পর্ক, বেতন বৃদ্ধি পেলে দুর্নীতি কমবে কি না, এবং সর্বস্তরে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের উপায় সম্পর্কিত মতামত চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া উচিত তা নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিতে পারবেন।
এভাবে সাত ধাপে সাজানো এই জরিপ দেশের নাগরিক ও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সম্পর্কিত প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও প্রস্তাবনা প্রতিফলিত করবে।
Leave a Reply